ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলার লালমোহনে ৩ দিনের কবিগান আসরের শেষ দিনে ভক্ত-পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে।দুর-দুরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে আয়োজনটি।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের মন্দির প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হতে দেখা গেছে। সন্ধা পর্যন্ত থাকবে ভক্তদের আগমন। রাতেই ভাঙ্গবে ৩ দিনের এ আয়োজন।
এরআগে, বুধবার (৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের শ্রী শ্রী কৃষ্ণ কালী মন্দিরের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিদিনই ছিলো গ্রাম বাংলার কবিগানের আয়োজন। এছাড়াও আরোতী ও শ্রীমতভগবত পাঠ ছিলো। স্থানীয় ণিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার বেশ কয়েকজন শিল্পীও অংশ নেন এতে। দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত কবিগানের এ উৎসব।
রাস পূর্নিমা উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মত এ বছরও এ উৎসব আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। শেষ দিন শুক্রবার সকাল থেকেই ঢোল, বাশি, কাসা, বেহালাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে কবিগানের এ আয়োজন চলতে দেখা যায়। এ বছরের আসরে পালা গান পরিবেশন করেছেন গোপালগঞ্জে বিশিষ্ট চারন কবি ও সুর শিল্পী শ্রী সুরেশ সরকার, শরৎ সরকার, ভারতের পশ্চিববঙ্গের নরেশ সরকার ও সংগীতশিল্পী মহারাজ উত্তর অধিকারী।গানের আসরে কবিরা গানে গানে জগৎ সংসারের নানাদিক তুলে ধরেন।
দূর-দুরান্ত থেকে আসা নানা বয়সের ও নানা শ্রেনী পেশার হাজারো ভক্ত-পুণ্যার্থী উপভোগ করেন কবিগান। কবি গানের এ আসরকে কেন্দ্র করে বসেছে ছোট ছোট গ্রামীন মেলা। সেখানেও ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
নতুন প্রজন্মের সাথে ঐতিহ্যবাহী কবিগানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পূর্ব পুরুষের রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর এ আসরের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি কিশোর অধিকারি বলেন, ৪১ বছর ধরে আমরা এ আয়োজন করে আসছি, ভক্ত-পুন্যার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে উৎসব। শেষ দিনেও ভক্তদের ঢল নেমেছে। এছাড়াও ভক্তদের জন্য ছিলো ২ বেলা প্রসাদের ব্যবস্থা।
মনজুর রহমান/ইবিটাইমস