ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদের নানাবিধ কর্মকান্ডে হতাশ হয়ে পড়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ২০১৮ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ পাওয়ার পর থেকেই তার নেতৃত্বে চলছে নানা অনিয়ম। দীর্ঘ ৫ বছর একই পদে থাকার সুযোগে দলের নিবেদিত ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদী অনুগত বাহিনী গড়ে তুলে সৃষ্টি করেছেন নিজস্ব বলয়। তার কর্মকান্ডকে মেনে নিতে পারছেন না দলীয় নেতা কর্মীরা।
জানা গেছে, পৌরসভা,ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশকৃতদের মধ্যে থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেন। কিন্তু দলীয় গ্রুপিং অন ঐক্যের কাছে প্রায় জায়গায় দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। তার পরেও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন মাথা ব্যথ্যা হয়নি। শীর্ষ নেতা সব সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। এরমধ্যে দীর্ঘদিন আইনী জটিলতা কাটিয়ে চলে আসে ঝিনাইদহের গুরুত্বপূর্ন সদর পৌরসভা ও ২টি ইউপি নির্বাচন। অভিযোগ উঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিকট ম্যানেজ হয়ে লোক দেখানো দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গনসংযোগ করে। ফলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৫টিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী।
এসব ঘটনা নিয়ে দল ও দলের বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারনগুলো কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় ফ্যাক্ট হতে পারে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
এদিকে তৃণমূল থেকে জোরালো দাবি উঠেছে, উপজেলার শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত পরিবর্তনের। অন্যথায় দলীয় বিশৃঙ্খলা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি বিরোধী শক্তিগুলো দিন দিন তাদের অবস্থান পোক্ত করবে। আর এতে আগামী নির্বাচনে ভরাডুবি হতে পারে আওয়ামী লীগের। এমন বক্তব্যই বেরিয়ে এসেছে সদর উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মুখ থেকে।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধরণ সম্পাদক জেএম রশীদুল আলম রশিদ জানান, সভাপতির অদক্ষতার কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ধংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তার অসহযোগিতা ও বিরোধিতার কারনে জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে। যে দ্বায়ভার তাকেই নিতে হবে। যে কারণে উপজেলার নেতা-কর্মীসহ সাধারন কর্মীরা তাকে আর চাচ্ছে না। সাধুহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন ও সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি নূর এ আলম বিপ্লবসহ সদর উপজেলার একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা জানান,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশীদ ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলা জুড়ে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের মনোনয়ন দেন তিনি। যার ফলে সদর উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জিতেছেন। তিনি সব সময় নিজস্ব বলয় তৈরী করতে চান। এজন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে নিয়ে তৃণমুলে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তার দ্রুত অপসারণ চায়।
এব্যাপারে ঝিনাইদহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ জানান,আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঝি প্র/ইবিটাইমস