বাংলাদেশে বিরোধীদলের ওপর দমন নীতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ প্রকাশ

বাংলাদেশে এই বছর সাধারণ নির্বাচনের আগে “সহিংসতা ও দমন” বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষত যখন কিনা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী সংস্থাটির প্রকাশিত এক বাৎসরিক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “বর্ধিত আন্তর্জাতিক নিরীক্ষার জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার করছে, কিন্তু দমন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সেই দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।”

২০২৩ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে, যদিও এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি। এই অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোর দিয়ে বলে আসছে যে নির্বাচনকালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আগামী নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সহ অন্যান্য দাবিতে বিএনপি ১১ জানুয়ারি দেশ জুড়ে বড় শহরগুলিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘ দফতরের সামনে অস্ট্রিয়া বিএনপি’র উদ্যোগে গত মাসে বাংলাদেশের অনির্বাচিত অবৈধ আওয়ামী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে, পুলিশ,র‍্যাব এবং আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিএনপির দলীয় কর্মীদের গুম,খুন এবং হত্যার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

পরে অস্ট্রিয়া বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তেনিও গুতরেস বরাবর কর্মরত অফিসারের নিকট স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।উক্ত মানববন্ধন,স্মারকলিপি প্রদান এবং বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সর্বজনাব নেয়ামুল বশির, মাসুদুর রহমান মাসুদ, জুয়েল ইসলাম,মাহবুবুল ইসলাম,নাসির উদ্দিন, এ,কে,এম লিয়াকত আলী,সালমান কবির সোহাগ, মামুন হাসান, আবুল কাশেম রাসেল, হেলাল উদ্দিন, কবির আহমেদ বাবু, রোকন তালুকদার, মোহাম্মদ শাহাজাদা,নাজমুল হোসেন নেয়ামত, দুলাল মিয়া,মিজানুর রহমান মোল্লা, কাওসার হোসেন,আব্দুল মোমেন,সাজ্জাদ হোসেন নয়ন, হামিদুর রহমান হামিম,অসিউজামান জাভেদ,এস এম নাসিম উদ্দিন প্রমুখ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মানববন্ধন,বিক্ষোভ সমাবেশ এবং স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অস্ট্রিয়া বিএনপি’র সকল নেতৃবৃন্দকে জানাই সংগ্রামী অভিনন্দন এবং প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ভয়েস অফ আমেরিকার (VOA) এক খবরে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতা একেএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন “২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুইটি সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ দুইবার সরকার গঠন করেছে। আগামী নির্বাচনের সময়ে দলটি যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে তারা আবারও ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নিবে। আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে দলটিকে অবশ্যই ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে।”

এদিকে, বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতাদের চরমপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে, তারা এত সহজে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। এ সময়ে হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিল আর আওয়ামী লীগ পড়ে গেল, এত সহজ নয়।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলী আরও বলেন যে, বাংলাদেশের শেষ দুইটি সাধারণ নির্বাচন “অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না”, এবং সেগুলোতে সহিংসতা, বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন, ভোটার ও বিরোধী প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এর মত ঘটনা ঘটে।
গাঙ্গুলী বলেন, “ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আবারও তাদের আন্তর্জাতিক বন্ধুদের বলছে যে, তারা গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা এবং বিরোধী নেতা ও সমর্থকদের গ্রেফতারের ঘটনাগুলো এর বিপরীত কথা বলছে।”

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ ও অধিকার সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারকে আগামী জাতীয় নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »