স্বপ্ন এবং চ্যালেঞ্জের পদ্মা সেতু

শেষ পর্ব 

ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ১০৯। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সাফল্য এবং অগ্রগতিঃ আমাদের মহান স্বাধীনতার পর থেকে বিগত ৫১ বছরে বাংলাদেশ কতখানি বদলে গিয়েছে তা বিগত বছরগুলোতে ঘোষিত বাজেট সমূহ পর্যালোচনা করে যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবেন। তাই প্রসঙ্গক্রমে বলা আবশ্যক যে, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী ১৯৭২ সনে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ বাজেট দিয়েছিলেন ৭৮৬ কোটি টাকার। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে ঐ বাজেট বাস্তবায়ন করা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। ১৯৭৫ সনে অর্থমন্ত্রী এ আর মল্লিক বাজেট দেন দেড় হাজার কোটি টাকার। ১৯৮০ সালে সাইফুর রহমান বাজেট দেন ৪,১০৮ কোটি টাকার। এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিকের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট দিয়েছিলেন ৪,৭৩৮ কোটি টাকার। তার আমলের শেষ অর্থমন্ত্রী ওয়াহিদুল হক দিয়েছিলেন ১২,৭০৩ কোটি টাকার বাজেট।

১১০। খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে ১৯৯৫ সনে সাইফুর রহমান বাজেট দিয়েছিলেন ২৩,১৭০ কোটি টাকার। ২০০০ সনে শেখ হাসিনার অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার বাজেট ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকার। খালেদা জিয়া সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৬ সনে সাইফুর রহমানের শেষ বাজেটটি ছিল ৬৯,৭৪০ কোটি টাকার। ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ বছর ২০০৮ সনে মির্জা আজিজুল ইসলাম বাজেট দেন ৯৯,৯৬২ কোটি টাকার। শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সনে অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত বাজেট দেন ১,১৩,৮১৫ কোটি টাকার। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য আ হ ম মুস্তাফা কামাল বাজেট দিয়েছেন ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার [দ্রষ্টব্যঃ কী হবে পদ্মা সেতুর সেই হাসান হোসেনের- নঈম নিজাম (সম্পাদক), বাংলাদেশ প্রতিদিন; ১২-০৬-২০২২]।

১১১। উপরোল্লিখিত বাস্তবতার আলোকে ১৯৭২ সনের পর থেকে চলতি ২০২২ সন পর্যন্ত তথা বিগত ৫১ বছরে বিশেষ করে ২০০৯ সনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোথা থেকে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, উপরোক্ত বাজেটগুলির আকৃতি প্রকৃতি তথা টাকার অংক পর্যালোচনা করলে তার একটি পরিচ্ছন্ন ধারণা পাওয়া যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের এহেন বদলে যাওয়া অর্থনৈতিক সাফল্য কোন গালগল্প নয় বরং দৃশ্যমান বাস্তবতা। এহেন বাস্তবতা কেউ যদি না দেখেন কিংবা দেখেও স্বীকার করতে না চান – তার জন্য দুঃখ এবং করুণা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এমতাবস্থায় এহেন বাস্তবতাকে সামনে রেখে একথা অকপটে এবং অসংকোচে বলা যায় যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে এনে দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আর তাঁরই রক্ত এবং আদর্শের অনুসারী সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা তার অফুরন্ত দেশপ্রেম এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছেন উন্নতি এবং সমৃদ্ধির মহাসড়কে।

১১২। দেশের আপামর জনসাধারণ জানেন পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দল বিএনপি বরাবরই অনিচ্ছুক এবং অনাগ্রহী ছিলেন। এহেন অবস্থায় বিগত ২০০১ সনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা দেয়– “পদ্মা নদীর উপর আর যেখানেই সেতু নির্মিত হউক না কেন, মাওয়ায় হবে না। খালেদ-নিজামী সরকারের এই ভাষ্যে দাতা সংস্থার পক্ষে জাইকা (JAICA) দারুণ রুষ্ট হয় এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করতে অপারগতা প্রকাশ করে এই কাজ থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে [দ্রষ্টব্যঃ আমাদের অর্থে আমাদের পদ্মা সেতু- এ কে আব্দুল মোমেন; সূত্রঃ সব বিরোধিতার বিপরীতে জাগ্রত সেতু- জাফর ওয়াজেদ (পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ), জুলাই ২০২২, পৃষ্ঠা নং- ২০০]।” সুতরাং পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং এই সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও স্থান নির্ধারণের ব্যাপারে খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে কতটা বিদ্বেষপ্রবণ এবং আক্রোশমূলক মনোভাব পোষণ করতেন তার উপরোক্ত বক্তব্য থেকে তা সন্দেহাতীত (Undoubtedly and trustworthily) ভাবেই প্রমাণিত হয়।

১১৩। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর উপরোক্ত বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি পদ্মা সেতু নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই নানা ঘটনার জন্ম দেয়। ঐ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকার বেহুদা বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে পদ্মা সেতু নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তার অসংলগ্ন এবং এলোমেলো বক্তব্যের কারণে এই সেতুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সরকার প্রধান এবং সেতু সংক্রান্ত ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সেতুর স্থান নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। শেখ হাসিনা যে স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেই স্থানে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে সুস্পষ্টভাবে অভিমত ব্যক্ত করে বিতর্কের জন্ম দেন স্বয়ং যোগাযোগ মন্ত্রী। ফলে সেতুর স্থান নির্ধারণ করা নিয়ে চলে নানামুখী আলোচনা এবং বিতর্ক। এহেন অবস্থায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কিংবা অর্থ জোগাড় করা তো অনেক দূরের কথা, এই সেতুর জন্য তাদের আমলে কোন স্থানই নির্ধারণ করতে পারেনি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

১১৪। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক এবং পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, পদ্মা সেতু নির্মিত হয়ে যাওয়ার পর এই সেতু নির্মাণের কৃতিত্ব এখন বিএনপি দাবি করে চলেছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া বিগত ২০০৪ সনে পদ্মা সেতুর প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। উপরন্তু তিনি আরও বলেন শুধু একদিকে নয়, পদ্মা নদীর দুই পাড়েই খালেদা জিয়া এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। কিন্তু কোন্ মাসের কোন্ তারিখে তিনি এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মির্জা ফখরুল তা বলেননি। এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কোন ছবি কোন টিভি চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল কি না কিংবা কোন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তা প্রচার অথবা প্রদর্শন করা হয়েছিল কি না তিনি তাও বলেননি। এহেন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কোন ছবি কোন সংবাদপত্রে ছাপানো হয়েছিল কি না, এমনকি কোন মোবাইলে তা ধারণ করা হয়েছিল কি না, তিনি তাও বলেননি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং লন্ডনে প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেন– “জাইকার প্রাক্ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর বিগত ২০০৩ সনে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তখন এই সেতুর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা।” দেশবাসীকে কতটা নির্বোধ এবং বোকা ভাবলে একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের মতো দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত থেকে তারা এহেন জলজ্যান্ত মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বক্তব্য দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারেন এবং তা অবলীলাক্রমে চালিয়ে দেয়ার জন্য এবং দুরভিসন্ধিমূলকভাবে চাপিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা করতে পারেন তা ভাবতে গেলে সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়।

১১৫। শেখ হাসিনার অদম্য নেতৃত্বের এক অপার সাহসী সিদ্ধান্তের সফল বাস্তবায়ন আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। কীর্তিনাশা পদ্মার বুকে এই সেতু এক অসাধারণ কীর্তিগাথা। এই সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের ৪ঠা জুলাই এই সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি নিজে। আমাদের নিজেদের অর্থে এই সেতু নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত ও তিনিই নিয়েছেন। এহেন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দেশী-বিদেশী নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি নিজে। তদুপরি বিভিন্ন ধরনের নিন্দা-মন্দ, বিরূপ সমালোচনা এবং বিভিন্ন প্রকার তির্যক বাক্যবাণে জর্জরিত হয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর এই সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা। সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এবং সমালোচনাকারীদের মুখে ছাই দিয়ে সেতু নির্মিত হওয়ার পর ২০২২ সালের ২৫শে জুন এই সেতু উদ্বোধন ও করেছেন তিনি নিজে। তাই যে কোন বিবেচনায় এই সেতুটির নামকরণ “শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু” হওয়া বাঞ্চনীয় ছিল এবং তা প্রত্যাশিত ও ছিল। কিন্তু দেশবাসীর এহেন চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে এই সেতুর নামকরণ পদ্মা সেতু করার সিদ্ধান্তে তিনি অটল এবং অবিচল থাকেন। তার এহেন সিদ্ধান্তের কারণে তিনি প্রচণ্ড উদার এবং অনেক বড় মনের পরিচয় দিলেও বাংলাদেশে বিদ্যমান সংকীর্ণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তিনি বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন বলে কোনভাবেই বিবেচিত হয় না।

১১৬। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করার সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। এই দলে অনেক ত্যাগী, যোগ্য এবং পরীক্ষিত নেতৃবৃন্দ থাকা সত্ত্বেও সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা অনেক অনুরোধ করে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে দেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করেন। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে অনেক বড় এবং উদার মনের পরিচয় দেন। কিন্তু বিচারপতি শাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনার এহেন উদারতা, মহত্ত্ব এবং বড় মনের কোন মূল্যায়ন করেননি কিংবা মর্যাদা দেননি। পুরো পাঁচটি বছর রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও শাহাবুদ্দিন আহমেদ একটি বারের জন্য ও কোন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি “জয় বাংলা” শব্দদ্বয় উচ্চারণ করেননি। এমনকি ২০০১ সনের সংসদ নির্বাচনের সময়ে তিনি তার নিরপেক্ষ অবস্থান ও ধরে রাখতে পারেননি। ফলে ঐ নির্বাচনের সময়ে তিনি তার শপথের মূল্য ও রক্ষা করতে পারেননি। উপরোক্ত নির্বাচনের সময়ে ক্ষমতাসীন বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক অন্যায়, অনিয়ম এবং অপকীর্তিকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন। এরই পাশাপাশি ঐ সরকারের বিভিন্ন ধরনের অনাচার, দুরাচার এবং অবিচারের ব্যাপারে তাকে বিভিন্নভাবে জ্ঞাত করানো সত্ত্বেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে উক্ত নির্বাচনটি পরবর্তীকালে “শালসা” (শাহাবুদ্দিন-লতিফুর-সাঈদ) নির্বাচন হিসেবে অনেক দুর্নাম কুড়িয়েছে।

১১৭। দেশী-বিদেশী বহুবিধ ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কারচুপির আশ্রয় নিয়ে ২০০১ সনের সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথা অনুযায়ী ৮ম সংসদের ১ম অধিবেশনে বিগত ২৮-১০-২০০১ ইং তারিখে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেন। তার উক্ত ভাষণ শুনে তাকে মনে হয়েছে দলে দারুণভাবে নিপীড়িত এবং দলত্যাগী এক নেতার ক্ষুব্ধ এবং অসন্তুষ্ট মনের বহিঃপ্রকাশ। উপরোক্ত ভাষণে তিনি তারই আমলের সরকারের তথা আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তদুপরি উক্ত ভাষণের বহুলাংশ জুড়ে ছিল বিভিন্ন ধরনের অসত্য, অর্ধসত্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ ভাষ্যে ভরপুর। উপরন্তু উক্ত ভাষণে তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক বলে অভিহিত করেন। যা নব্য ক্ষমতাসীনদের কাছে তাকে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণকারী এক চাটুকারের বক্তব্য বলে মনে হয়েছে। এহেন অবস্থায় তার উক্ত ভাষণের পর প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন শাহাবুদ্দিন আহমেদের উক্ত বক্তব্যকে আমাদের সংবিধানের ১৫১ নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লংঘন বলে অভিহিত করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এহেন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহাবুদ্দিন আহমেদ কোন মতামত কিংবা কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। তাই শাহাবুদ্দিনের এহেন নৈতিক স্খলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঐ সময়ে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় “কাপুরুষের জবানবন্দী” এবং “পোর্ট্রেট অফ এ বিট্রেয়ার” শিরোনামে প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বিভিন্ন ধরনের তথ্যবহুল এবং বিশ্লেষণধর্মী ঘটনাবলী ও তথ্য-প্রমাণাদির ভিত্তিতে সিরিজ প্রতিবেদন লিখে তার তীব্র সমালোচনা করেন। অনুসন্ধানী পাঠকবর্গ ইচ্ছা করলে ঐ সমস্ত অসংখ্য প্রতিবেদন সমূহ পর্যালোচনা করে বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের এহেন নৈতিক স্খলন জনিত এবং পক্ষপাতমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সন্দেহমুক্ত হতে পারবেন।

১১৮। পৃথক পৃথক দু’টি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সুদীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একাধিকবার আবেদন জানিয়েও তিনি জামিন পাননি। এহেন অবস্থায় শেখ হাসিনার দয়া, অনুকম্পা এবং বদান্যতায় নির্বাহী আদেশে তার উপরোক্ত সাজা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে এবং তিনি কারাগারের বাইরে অবস্থান করছেন। অপ্রিয় হলেও সত্য যে শেখ হাসিনার এহেন উদারতা, মানবিকতা এবং মহানুভবতার জন্য খালেদা জিয়া নিজে কিংবা তার দলের কোন একজন নেতা কর্মী অথবা তার কোন আত্মীয়-স্বজন একটি বারের জন্য ও শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাননি অথবা কোন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি। উপরন্তু বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এখনো স্লোগান দেয়- “পচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আর একবার।” একটি সংগঠনের নীতি নৈতিকতাবোধ কতটা নীচু স্তরে পৌঁছলে এবং একটি দল কতটা অমানবিক এবং বিবেক বর্জিত হলে তারা এমন স্লোগান দিতে পারে তা ভেবে হতবাক হতে হয়। তাই এই দলের নেতা নেত্রীদের নিকট শেখ হাসিনার উদারতা, মহত্ত্ব এবং মানবিকতার কোন মূল্যায়ন কোনদিন হবে বলে কোনভাবেই আশা করা যায় না।

১১৯। অত্যন্ত হৃদয়-বিদারক হলেও সত্য যে, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেও যাদের প্রতিশোধ স্পৃহা মিটেনি এবং নিবৃত্ত হয়নি তারাই আবার পরিকল্পিতভাবে একুশে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে তারা শুধু শেখ হাসিনাকেই নয়, পুরো আওয়ামী লীগকেই নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য Indemnity Ordinance -কে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি সমূহ বিভিন্ন কৌশলে ইতিহাস বিকৃত করেছে। আর তা করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নাম নিশানা এবং তাঁর অবদান এদেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য সর্বান্তকরণে এবং সর্বাত্মকভাবে প্রচেষ্টা ও তৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। তাই এই সমস্ত অপরাধীদের বংশধরদের দুর্দমনীয় প্রতিহিংসা এবং দুর্বিনীত প্রতিশোধস্পৃহা চরিতার্থ করার নিমিত্তে অনাগত ভবিষ্যতে তারা আবারও ইতিহাস পরিবর্তন করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে শেখ হাসিনার অবিস্মরণীয় অবদান এবং কৃতিত্ব মুছে ফেলার জন্য তারা নতুন উদ্যমে সচেষ্ট এবং সক্রিয় হতে পারে। এই সেতুর বিরোধিতাকারীরা সেতুর নাম পরিবর্তন করে “হাজী শরীয়তউল্লাহ সেতু” কিংবা অন্য কোন নামে নামকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। স্মর্তব্য যে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে যাদের হাত এবং বুক কাঁপেনি তারা সুযোগ পেলে শেখ হাসিনাকেও ছাড়বে না। আর এতসব কারণেই আমার নিজস্ব বিবেচনায় পদ্মা সেতুর নাম “শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু” না করে শুধুমাত্র “পদ্মা সেতু” নামকরণ করা সঠিক কিংবা বাস্তবসম্মত অথবা যথোপযুক্ত হয়েছে বলে কোনভাবেই বিবেচিত হয় না।

১২০। আমাদের গর্ব এবং অহংকারের অনন্য সাধারণ প্রতীক পদ্মা সেতু। কিন্তু এই সেতু নির্মাণের পথ মোটেও সুখকর কিংবা মসৃণ ছিল না। প্রমত্তা পদ্মাকে পোষ মানিয়ে এই নদীর উপর সেতু নির্মাণ করার উদ্দেশ্য যত মহৎই হউক না কেন– একটি জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ সবসময়ই বিদ্যমান ছিল। এরই পাশাপাশি দেশের একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহলের বিরামহীন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। তদুপরি বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক তথ্য উপাত্ত বিহীন সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন এবং এহেন ভুয়া ও মনগড়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে প্রতিশ্রুত ঋণচুক্তি বাতিল করায় পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা বেশ হুমকির মুখে পড়ে যায়। বিশ্বের কোন প্রকল্প কিংবা সেতু নিয়ে ইতিপূর্বে কখনো এত আলোচনা কিংবা সমালোচনা হয়নি। কোন সেতু কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোন দেশ কিংবা সরকারকে এত প্রতিরোধ কিংবা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি। বিশ্বের কোন দেশকে কোন সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে এত গুজব, অভিযোগ, ষড়যন্ত্র এবং নেতিবাচক বক্তব্য সমূহ মোকাবেলা করতে হয়নি। উপরন্তু দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার দল এবং নোবেল বিজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের বিরতিহীন অপচেষ্টা মোকাবেলা করে এই সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকেই তখন সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্ত এবং আদর্শের সুযোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনা দেশ বিরোধী নিন্দুকদের সব ষড়যন্ত্র, সমালোচনা, বিরোধিতা এবং প্রতিবন্ধকতা দু’পায়ে মাড়িয়ে শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন। এরই পাশাপাশি Slow but constant motion -এ তিনি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে গিয়েছেন। তার অপরিসীম আত্মবিশ্বাস এবং দুর্দমনীয় সাহসিকতার অনন্য বিজয়গাথা আমাদের এই পদ্মা সেতু।

১২১। শেখ হাসিনার অকুণ্ঠ নিষ্ঠা, অপরিসীম সাহসিকতা এবং অপরাজেয় ইচ্ছা শক্তির ফলশ্রুতিতে দেশ ও জাতি পেল বিশ্বের বিস্ময় নিদারুণ সৌন্দর্যমণ্ডিত নান্দনিকতার অপরূপ নিদর্শন এবং সুবিশাল সম্ভাবনাময় পদ্মা সেতু। আমাদের নিজেদের টাকায় এই সেতু নির্মাণ করে সেতু বিরোধী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের যথোপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এহেন অবস্থায় আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার দিক দিয়ে এই সেতু বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্ব নেতাদের মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এই সেতু। তাই আমাদের সামর্থ্য, সক্ষমতা, মর্যাদা এবং সম্ভাবনার অনির্বাণ নিদর্শন এই সেতু। তদুপরি এই সেতুর সামাজিক, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও অনেক ব্যাপক। এই সেতুর ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কৌশিক বসু ২০১৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন– “পদ্মা সেতু নির্মাণের যে ইতিহাস তাতে বাংলাদেশ এবং বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে যথেষ্ট তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থে কাজ করেছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও কেউ ভাবতে পারেনি বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থে এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। বিশ্ব ব্যাংকের উপর নির্ভরতা ছাড়াই তারা এটা করতে পারছে।” সুতরাং প্রমত্তা কীর্তিনাশা পদ্মার বুকে অবিস্মরণীয় কীর্তিগাথা স্থাপন করে শেখ হাসিনা অবধারিতভাবেই হয়ে গেলেন ইতিহাসের অংশ।

১২২। খ্যাতিমান মহাকাশ বিজ্ঞানী এবং ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন- “সেটা স্বপ্ন নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, বরং সেটাই স্বপ্ন যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।” প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপরে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছেন শেখ হাসিনা। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও করেছেন তিনি নিজে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং অবকাঠামো হচ্ছে এই সেতু। এই সেতুটি শুধু পদ্মার উপরেই নয়, গোটা গঙ্গা অববাহিকায় তৈরী সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু। যে বাংলাদেশকে এক সময়ে মার্কিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জার অবজ্ঞার সাথে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশই আজ নিজস্ব অর্থায়নে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল। উপরন্তু এই প্রকল্প এমন এক সময়ে বাস্তবায়ন করা হলো যখন সারা বিশ্ব অতিমারি করোনার মহাতাণ্ডবে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন নিদারুণভাবে অর্থনৈতিক মন্দায় আক্রান্ত। এমনই এক সংকটকালীন সময়ে সকল প্রকার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার প্রবল ইচ্ছা এবং দুঃসাহসিক ও দুর্দমনীয় আত্মবিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে অপরূপ নান্দনিক শৈলীর পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলো। এমতাবস্থায় সামগ্রিক বিবেচনায় পদ্মা সেতু আমাদের আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং আত্মমর্যাদার অনির্বাণ স্মারক স্তম্ভ। তাই ষড়যন্ত্রকারী এবং দেশের উন্নয়ন বিরোধীদের জন্য এই সেতু নিঃসন্দেহে সমুচিত জবাব। আর ঠিক একারণেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য এই সেতু যেমন ঈর্ষা এবং মর্মবেদনার কারণ, ঠিক তেমনি এই সেতুর সমালোচনাকারী এবং বিরোধিতাকারীদের জন্য অত্যন্ত গ্লানিকর এবং বিব্রতকর ও বটে। কিন্তু আপামর দেশবাসী জানেন শেখ হাসিনার দুর্দমনীয় সাহস, অফুরন্ত দেশপ্রেম এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞার সোনালী ফসল এই পদ্মা সেতু।

১২৩। অভাবনীয় দেশপ্রেমের অনবদ্য উপাখ্যান আমাদের পদ্মা সেতু। আজ পদ্মা সেতু মানে গর্বিত বাংলাদেশ। পদ্মা সেতু মানে মাথা উঁচু করে থাকা বাঙালিদের অপরিমেয় দেশপ্রেম। এই সেতুর স্বাপ্নিক এবং রূপকার শেখ হাসিনা। তার নির্ভীক, নিরন্তর, অকুতোভয় এবং দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবের সার্থক প্রতিফলন এই সেতু। এরই পাশাপাশি নানা মুখী অপপ্রচার এবং নেতিবাচক সমালোচনা সত্ত্বেও এই সেতুর সাথে মিশে রয়েছে দেশের ১৭ কোটি জনতার অকুণ্ঠ সমর্থন, সর্বাত্মক সহযোগিতা, হৃদয় নিংড়ানো আবেগ এবং তাদের অন্তরের অন্তস্তলের স্বতঃস্ফূর্ত ভালবাসা। এই সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে চরম বৈরী পরিবেশ, অনেক বিরূপ সমালোচনা এবং শিষ্টাচার বহির্ভূত অপবাদ। তাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং পারিবারিকভাবে অনেক ধরনের অপবাদ দেয়ায় তার হৃদয়ে হয়েছে রক্তক্ষরণ। অশালীন এবং অমর্যাদাকর বাক্যবাণে তার অন্তর হয়েছে ক্ষতবিক্ষত। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশী-বিদেশী নানামুখী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে, পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করে এবং সকল প্রকার নিন্দা ও সমালোচনা এবং অপবাদ নিরবে নিভৃতে হজম করে তিনি দীপ্ত পদে এগিয়ে গিয়েছেন তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে। কাউকে দেখতে দেননি তার চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা অশ্রু। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে বিরুদ্ধবাদীদের সকল প্রকার বিরোধিতা এবং সমালোচনা প্রতিহত করে, ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কাউকে জানতে কিংবা বুঝতে না দিয়ে এবং দু’চোখের অশ্রু লুকিয়ে রেখে নীলকণ্ঠ শেখ হাসিনা দেশবাসীকে উপহার দিলেন সুনিপুণভাবে নির্মিত সুশোভন পদ্মা সেতু।

১২৪। সুস্থ বিবেক এবং পরিচ্ছন্ন মন-মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ খুব ভালোভাবেই জানেন বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন হতো না। এরই পাশাপাশি একথাটিও এখন প্রমাণিত এবং প্রতিষ্ঠিত সত্য যে শেখ হাসিনা না হলে এই দৃষ্টিনন্দন এবং মনোমুগ্ধকর পদ্মা সেতু ও কোনদিন নির্মাণ করা সম্ভব হতো না। তাই বিভিন্ন ঘটনাবলীর আলোকে একথা অকপটে এবং অসংকোচে বলা যায় যে, দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতাকে পাথেয় হিসেবে বিবেচনা করে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে একক কৃতিত্বের দাবিদার শেখ হাসিনা। সরকার প্রধান হিসেবে তিনি আছেন বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে এবং জেল হত্যার বিচার হয়েছে। তার অনমনীয় এবং অপ্রতিরোধ্য মনোভাবের কারণেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ও বিচার হয়েছে। তিনি আছেন বলেই দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে এবং জঙ্গীবাদ দমন হয়েছে। শেখ হাসিনা আছেন বলেই বাংলাদেশ আজ শান্তি, সাম্য এবং সম্প্রীতির দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। তিনি আছেন বলেই একসময়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভরে আখ্যা দেয়া তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই আজ একথা অনেক জোর দিয়েই বলা যায় বিশ্ব মানচিত্রে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন প্রমত্তা পদ্মার বুকে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে আমাদের অনেকদিনের স্বপ্ন এবং চ্যালেঞ্জের পদ্মা সেতু। আর এই মনোমুগ্ধকর এবং নয়নাভিরাম সেতুর প্রতিটি ধূলিকণায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে একটি মাত্র নাম– শেখ হাসিনা।

ড. মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট  

বি/ ইবিটাইমস /এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »