কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে মরক্কো সেমিফাইনালে

উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশ মরক্কো বিশ্বকাপ ফুটবলে এক নতুন চমক নিয়ে এসেছে। এই পর্যন্ত অপরাজিত মরক্কো রোনালদোর পর্তুগালকে এক গোলে পরাজিত করে দেশে পাঠিয়েছে

স্পোর্টস ডেস্কঃ শনিবার কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় দিনের প্রথম খেলায় মরক্কো অত্যন্ত দুর্দান্ত ও দাপটের সাথে খেলে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ইতিহাসে প্রথম বারের মত বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উন্নীত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

খেলার প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটের সময় মরক্কোর পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন ইউসুফ এন- নেসেরি (Y. En-Nesyri)। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর পারফরম্যান্স ছিলেন অসাধারণ। ডানে-বামে,ওপরে-নীচে এক কথায় যেখানে বল সেখানেই গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। আজ কোয়ার্টার ফাইনালে ইয়াসিন বুনু পর্তুগালের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়েছেন।

নক-আউট রাউন্ডে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কি দুর্দান্তই না খেলেছিল পর্তুগাল। একেবারে ছিড়ে- ফুঁড়ে তাদের ৬-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এলো। তাদের ছান্দসিক এমন দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সের পর ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিল মরোক্কো স্রেফ উড়ে যাবে। কিন্তু শনিবার রাতে মরোক্কান রূপকথায় আঁটকে গেল পর্তুগালের ছন্দ।

আগের খেলার রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিককারী গনসালো রামোস আজ ছিলেন নিজের ছাঁয়া হয়ে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো খেলার ৪০ মিনিট বাকি থাকতে নামেন। তাতে তাদের দলের আক্রমণের ধার বাড়লেও ইয়াসিন বুনু নামক অভেদ্য দেয়াল আর ভেদ করতে পারেনি পর্তুগীজরা। তাতে করে ১৬ বছর পর সেমিফাইনালে ওঠা হয়নি তাদের। ৪২ মিনিটে ইউসুফ এন-নেসেরির করা গোলটিই রোনালদো-পেপেদের ছিটকে দেয় বিশ্বকাপ থেকে। চোখের জলে বিদায় নেয় সাবেক ইউরোপ সেরারা।

অন্যদিকে পর্তুগালের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ে মরোক্কো। প্রথম কোনো আফ্রিকান দল হিসেবে পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে। তাদের আগে ক্যামেরুন ১৯৯০ সালে, সেনেগাল ২০০২ সালে ও ঘানা ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেললেও শেষ চারে যেতে পারেনি। একমাত্র দল হিসেবে এখন পুরো একটি মহাদেশের স্বপ্নকে বহন করে চলছে আচরাফ হাকিমি ও হাকিম জিয়েখরা।

গ্রুপপর্বে তারা আগের আসরের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছিল। এরপর বিশ্বকাপ শিরোপা প্রত্যাশি বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে এবং শেষ ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে ‘এফ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় মরোক্কো। এরপর শেষ ষোলোতে স্পেনের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলকে টাইব্রেকারে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এবারের বিশ্বকাপে মরোক্কো পাঁচ ম্যাচ খেললেও প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় তাদের জালে বল জড়াতে পারেনি। কানাডার বিপক্ষে যে একটি গোল হজম করেছিল সেটিও ছিল আত্মঘাতী। তাদের ইয়াসিন বুনু যেভাবে গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন তাতে মরোক্কো ফাইনালে পৌঁছে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন দেখার বিষয় রূপকথার জন্ম দিয়ে চলা মরোক্কো ঠিক কোথায় গিয়ে থামে।

কাতার টেলিভিশনের বিশ্বকাপ ফুটবলের সরাসরি সম্প্রচারের ধারা ভাষ্যকার বার বার মরক্কোকে সমগ্র আরব বিশ্বের তথা সমগ্র মুসলিম জাতির প্রতিনিধি বলেও বার বার প্রশংসা করছিলেন। ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে বিগত খেলায় মরক্কোর জয়লাভের পর কাতারের রাস্তায় মরক্কোর দর্শকদের বিভিন্ন মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করছেন। মরক্কো দিনের অপর কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের বিজয়ীর সাথে সেমিফাইনাল খেলবে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »