নয়া পল্টনে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ১, রিজভী গ্রেফতার

রাজধানীর নয়া পল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত একজন হাসপাতালে মারা গেছেন ৷ এছাড়াও আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী সকাল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে জড়ো হতে শুরু করেন৷ বিকালে তারা যখন বিএনপি কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় বিএনপির নেতাকর্মীদের।

এদিকে বিএন‌পির মি‌ডিয়া উইং সদস্য শায়রুল ক‌বির খান এ তথ্য বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা সাতটা দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে নয়াপল্টন দলটির কেন্দ্রীয় অফিস থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে নিয়ে গে‌ছে।

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন, “এটা ন্যক্কারজনক হামলা। পুলিশ গেইট বন্ধ করে ভেতরে তল্লাশির নামে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এটা অসাংবিধানিক।”

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত এক ব্যক্তি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন৷ তছাড়াও অনেককে আটক করেছে পুলিশ৷ সংবাদ মাধ্যমটি আরও জানায়“ নয়াপল্টন এলাকায় সংঘর্ষের সময় আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়৷ তদের মধ্যে আকবর নামে ৩০ বছর বয়সী একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন৷” নিহত ওই যুবকের শরীরে ‘ছররা গুলির চিহ্ন’ রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্র থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয় যে বুধবার বেলা সাড়ে চারটা পর্যন্ত নয়াপল্টনের সংঘর্ষে আহত আটজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে আনা হয়৷ তাঁদের মধ্যে মকবুল মারা গেছেন৷ অন্যদের মধ্যে চারজনের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন রনি, মনির, আনোয়ার ইকবাল ও খোকন৷

প্রথম আলোর ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মকবুলকে এক ব্যক্তি হাসপাতলে নিয়ে আসেন, যিনি নিজের নাম মোস্তাফিজুর রহমান বলে জানিয়েছেন৷ ওই ব্যক্তির দাবি, তিনি পথচারী, রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মকবুলকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে আসেন ৷

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল৷ এর মধ্যে বিএনপিকর্মীরা বুধবার সকাল থেকে নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে জড়ো হতে শুরু করেন৷ বিকালে তারা যখন বিএনপি কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন,তার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়৷

পুলিশ ধাওয়া দিলে বিএনপি কর্মীরা ঢিল ছুড়তে শুরু করে৷ পুলিশ তখন রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোয়াট সদস্যদেরও দেখা যায় সেখানে৷

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে নয়া পল্টন এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে৷ ফকিরাপুল থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়৷ পুলিশের ধাওয়ায় বিএনপিকর্মীরা বিভিন্ন গলিতে গিয়ে ঢিল ছুড়তে থাকলে পুলিশ গলিতে ঢুকেও তাদের ধাওয়া দেয়৷

গ্রেফতারের পূর্বে বিএনপির নয়াপল্টনের অফিস থেকে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নেতাকর্মীরা ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে পার্টি অফিসে এসেছিলেন৷ তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ৷ টিয়ার গ্যাসে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷ অনেক কর্মীকে আহত অবস্থায় আটক করে নিয়ে গেছে৷”

তিনি অভিযোগ করেন, “পার্টি অফিসের ভেতরে হাজার দুয়েক নেতাকর্মী আটকা পড়েছে, তাদের মধ্যে আহত অনেকে আছে কিন্তু পুলিশ কাউকে বের হতে দিচ্ছে না৷”

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মো. হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, “১০ তারিখে বিএনপির সমাবেশের স্থান এখনো নির্ধারণ হয়নি কিন্তু আজ নয়া পল্টন পার্টি অফিসের সামনে উভয় পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ বারবার অনুরোধ করার পরও রাস্তা ছেড়ে দেয়নি ৷ পরে তাদেরকে উঠাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে৷ এভাবেই সংঘর্ষের ঘটনা৷ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন ৷”

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »