সুইজারল্যান্ডকে ১-০ হারিয়ে হারিয়ে ব্রাজিল দ্বিতীয় রাউন্ডে !

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২ – এর জি গ্রুপের দ্বিতীয় খেলায় ব্রাজিল সুইজারল্যান্ডকে পরাজিত করে দুই খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে নক আউট রাউন্ড নিশ্চিত করেছে

স্পোর্টস ডেস্কঃ সোমবার (২৮ নভেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহার স্টেডিয়াম ৯৭৪ এর মাঠে বিশ্বকাপ শিরোপা প্রত্যাশি ব্রাজিলকে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডকে হারাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। খেলার প্রথমার্ধে আক্রমন-পাল্টা আক্রমণ করে খেলে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ড উভয়েই। প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতি থেকে ফিরে খেলার ৮৩ মিনিটে ব্রাজিলের পক্ষে জয় সূচক গোল করেন স্ট্রাইকার ক্যাসেমিরো।

খেলার শুরুর তৃতীয় মিনিটের মাথাতেই বাম প্রান্তে ফাউলের শিকার হন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে ফ্রি কিক কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। তারপর খেলার ৫ মিনিটে ব্রাজিলের ডিফেন্সের ভুলে সুইজারল্যান্ড থেকে বিপদের সম্ভাবনা তৈরী হলে তা ক্লিয়ার করে দেন মার্কুইনহোস। খেলার ৬ মিনিটে কর্নার পায় সুইজারল্যান্ড। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সুইসরা।

প্রথমার্ধের ১২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের ভালও সুযোগ তৈরী করলেও তা আটকে দেয় সুইস ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় সুইজারল্যান্ড। তবে ফ্রি কিক থেকে সুবিধা করতে পারেনি সুইসরা। খেলার ১৯ মিনিটে বাম দিক থেকে পাকুয়েতার ক্রস থেকে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে গোল বঞ্চিত হয় ব্রাজিল।

খেলার ২১ মিনিটে আবারও সুযোগ আসে ব্রাজিলের সামনে তবে তা থেকে কোন বিপদ ঘটাতে পারেনি তারা। ম্যাচের ২৩ মিনিটে অ্যাটাকে যায় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু তা আটকে যায় ব্রাজিল ডিফেন্সে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রাফিনহার বাড়ানো বলে পা ছোঁয়ান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে তা অসাধারণ সেভে দলকে রক্ষা করেন সুইস গোলরক্ষক ইয়ান সোমার।

খেলার ৩০ মিনিটে গুছিয়ে আক্রমণে যায় ব্রাজিল। ডি বক্সের বাইরে থেকে রাফিনহার নেওয়া শট নিজের গ্লোভসে নেন সোমার। খেলার ৩২ মিনিটে গুছিয়ে আক্রমণে গেলেও গোলমুখে শট করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। সেখান থেকে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় সুইজারল্যান্ড। তবে তা আটকে দেন এডার মিলিতাও। খেলার ৩৭ মিনিটে গোছানো আক্রমণ থেকে ডি বক্সের বাইরে থেকে গোলমুখে শট করে এডার মিলিতাও। তবে তা ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।

তারপর খেলার ৪৩ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বল বাড়ান রাফিনহা। তবে তা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে ডিফেন্ডাররা। কর্নার থেকে আবারও কর্নার পায় ব্রাজিল। কর্নার থেকে সুযোগ তৈরী করলেও তা থেকে গোল করতে পারেনি ব্রাজিল। পরে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত মিনিটে কর্নার পায় সুইজারল্যান্ড। তবে তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত খেলার প্রথমার্ধ গোল শূন্য শেষ করে বিরতিতে যায় ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ড।

বিরতি থেকে ফিরেই আক্রমণে যায় ব্রাজিল। তবে তা ক্লিয়ার করে দেন সুইস ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৫০ মিনিটে রদ্রিগোকে ফাউল করার কারণে ফ্যাবিয়ান রিডারকে হলুদ কার্ড দেখান রাফারি। খেলার ৫২ মিনিটে ফাউল করার কারণে হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রেড। ৫৩ মিনিটে আক্রমণে যায় সুইজারল্যান্ড। ডান দিকে সাজানো আক্রমণ দারুণ ডিফেন্সে রুখে দেন থিয়াগো সিলভা।

এরপর ৫৪ মিনিটে কর্নার আদায় করে সুইজারল্যান্ড। রুবেন ভ্যারগাসের নেওয়া কর্নার সহজেই ক্লিয়ার করে দেন অ্যালিসন বেকার। ৫৬ মিনিটে ডিফেন্সের ভুলে বিপদের শঙ্কা জেগেছিল। তবে তা ক্লিয়ার করে দেন অ্যালিসন বেকার। ৫৭ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বাড়ানো বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হয় রিচার্লিসন।

ব্রাজিল গোল পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকলে মাঝেমধ্যে সুইজারল্যান্ডও সুযোগ বুঝে কাউন্টার অ্যাটাকে যায়। খেলার ৬০ মিনিটের পর বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে সুইজারল্যান্ড। তবে তা আটকে দেয় ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র সুইজারল্যান্ডের জালে বল জড়ালেও তা অফ সাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডি বক্সের সামান্য বাইরে ফাউলের শিকার হন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে আবারও আক্রমণে গেলেও তা থেকে গোল বের করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে ফ্রি কিক পায় ব্রাজিল। তবে রদ্রিগোর নেওয়া সেই ফ্রি কিক চলে যায় পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে।

তারপর ৭৯ মিনিটে অ্যাটাকে যায় সুইজারল্যান্ড। তবে তা থেকে কোন বিপদ ঘটাতে পারেনি তারা। ৮১ মিনিটে কর্নার পায় ব্রাজিল। তবে তা থেকে গোল পেতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। তবে খেলার ৮৩ মিনিটে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। রদ্রিগোর পাসে ডি বক্সের ভেতর থেকে অসাধরণ শটে বল সুইজারল্যান্ডের জালে জড়ান ক্যাসেমিরো। তার গোলে ম্যাচে প্রথম লিড পায় ব্রাজিল।

খেলায় গোল পাওয়ার পর আরও বেশ কিছু আক্রমণ করে ব্রাজিল। তবে তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল না হলে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয়ে নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। আর এই জয়ের ফলে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করলো ব্রাজিল।

খেলায় মোট ১৮টি শট নেয় ব্রাজিল। ৫টি ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে সুইসরা লক্ষ্যহীন ৫টি শট নেয়। ‘জি’ গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে ২ খেলায় সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেনপাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট সুইসদের। ১টি করে পয়েন্ট ক্যামেরুন ও সার্বিয়ার। ব্রাজিল গ্রুপের শেষ খেলায় ক্যামেরুনের মুখোমুখি হবে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় এবং অস্ট্রিয়ার সময় রাত ১০ টায়।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »