বিশ্বকাপ ফুটবলে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইরানের চমক

গ্রুপের প্রথম খেলায় ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ গোলে হেরে বিধ্বস্ত ইরান প্রাপ্য জয়ের মাধ্যমে নক আউট রাউন্ডে উঠার স্বপ্ন জিইয়ে রাখলো

স্পোর্টস ডেস্কঃ শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের দিনের প্রথম খেলায় ওয়েলসের বিপক্ষে দারুণ প্রেসিং ফুটবল খেলার পুরস্কার পেলো ইরান। নির্ধারিত ৯০ মিনিট অমীমাংসিতভাবে খেলা শেষ হয়(০-০)। অতিরিক্ত বা যোগ করা সময়ের অষ্টম ও দশম মিনিটে মিনিটের ২-০ গোলে ওয়েলসকে হারালো এশিয়ার পার্সিয়ানরা।

১৯৫৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা বৃটিশ দ্বীপ পুন্জের ওয়েলস আগের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। ইরানের বিপক্ষেও তারা ছিল না ছন্দে। অন্যদিকে পার্সিয়ানরা একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিল। ৮৬ মিনিটে ওয়েলসের গোলকিপার ওয়েন হেনেসি লাল কার্ড দেখলে খুলে যায় তাদের ভাগ্য।

দ্বিতীয়ার্ধে নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ করা হয় ১৩ মিনিট। আর সেখানেই বাজিমাত করে ইরান। অষ্টম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রুজবেহ চেশমি দুর্দান্ত শটে অবিশ্বাস্য গোল করেন। তিন মিনিট যেতেই রামিন রেজাইয়ান করেন দ্বিতীয় গোল।

বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ের খোঁজে মুখোমুখি হয়েছিল ইরান ও ওয়েলস। আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ শেষে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি।

তবে ইরানের জন্য প্রথম ৪৫ মিনিটে হতাশার ব্যাপার ছিল, তারা জালের দেখা পেলেও এগিয়ে যেতে পারেনি। পারস্যের দেশটি ১৫ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেছিল। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। রবার্টসের বল দখলে নিয়ে ইরানের ঘোলিজাদেহ পাঠান আজমোনকে। তার কাছ থেকে ফিরতি পাসে গোল করেন ঘোলিজাদেহ, কিন্তু ভিএআরে দেখে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।

এর চার মিনিট আগে ওয়েলস দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। ডানপ্রান্ত থেকে রবার্টসের বাড়ানো বলে মুরে পা বাড়িয়ে শট নেন। গোলকিপার হোসেইনি তা ফিরিয়ে দেন দারুণ দক্ষতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে ইরানকে হতাশ করে গোলপোস্ট। ৫২ মিনিটে দুইবার তাদের ব্যর্থ করে সাইডবার। কাউন্টারে থেকে আজমোন বক্সের ডান প্রান্ত থেকে শট নেন, ডানপোস্টে বল লেগে ফিরে এলে ঘোলিজাদেহর শট বিপরীত পোস্টে লেগে ফিরে যায়। আজমোন ফিরতি শট নিলে তা সরাসরি হেনেসির হাতে ধরা দেয়।

৭৩ মিনিটে আরেকবার ইরান সুযোগ পেয়েও এগিয়ে যেতে পারেনি। বক্সের বাইরে থেকে এজাতোলাহির বাঁকানো শট হেনেসি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলতো ছোঁয়ায় কর্নার বানান।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে বক্সের বাইরে এসে তারেমিকে বিপজ্জনক ফাউল করেন। ভিএআরে লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে। অ্যারন রামসি নিজেকে উৎসর্গ করে মাঠ থেকে উঠে যান এবং গোলকিপিংয়ে নামেন ড্যানি ওয়ার্ড।

নতুন গোলকিপার সুবিধা করতে পারেননি। ইনজুরি টাইম হয় ৯ মিনিটের। বাকি সময়ে বাজিমাত করে ইরান। ৯৮ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ঢোকে তারা। ওয়েলসের অ্যালেন ঠিকভাবে বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল চলে যায় চেশমির কাছে। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান ৭৮ মিনিটে বদলি নামা এই ডিফেন্ডার।

গোল শোধে মরিয়া ওয়েলস বাকি সময়ে জমাট বাঁধে ইরানের বক্সে। তারই খেসারত দিতে হয় আরেকটি গোল খেয়ে। ইনজুরি টাইমের ১১তম মিনিটে কাউন্টার থেকে তারেমি বল এগিয়ে নেন। কাউকে বল পাস দেওয়ার জন্য খুঁজতে থাকেন। পান রেজাইয়ানের দেখা। বক্সের প্রান্ত থেকে বল তুলে দেন গোলকিপারের উপর দিয়ে, হয় লক্ষ্যভেদ।

এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেলো ইরান। বাড়ালো শেষ ষোলোতে ওঠার আশা। অন্যদিকে ওয়েলস পিছিয়ে পড়লো খাদের কিনারায়। শেষ ম্যাচে ইরান খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এবং ওয়েলস মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »