একটি ভারতীয় টেলিফোন জালিয়াতি চক্র অস্ট্রিয়ান নাগরিকদের থেকে ২৭ লাখ ইউরো হাতিয়ে নেয়ার পর দিল্লিতে গ্রেফতার হয়েছে
ব্যুরো চীফ, অস্ট্রিয়াঃ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ান ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের ডিরেক্টর আন্দ্রেয়াস হোলছার এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে, এই ভারতীয় টেলিফোন জালিয়াত চক্র দলের সদস্যরা অস্ট্রিয়ানদের উপর নজর রেখেছিল এবং তাদের কাছ থেকে নানান কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি পেশাদার কল সেন্টারের মাধ্যমে এই ভারতীয় অপরাধীরা অসংখ্য অস্ট্রিয়ানদের কাছ থেকে অর্থ চুরি করেছে। তাদের হাতে অনেক কৌশল ছিল: তারা সাধারণত “ইন্টারপোল এজেন্ট” হিসাবে ইংরেজিতে ফোনে
কথা বলে এবং উত্তর দেয়। যে ব্যক্তিকে কল করা হয়েছে তাকে একটি অপরাধের জন্য বিচার করা হচ্ছে বা তার পরিচয় চুরি করা হয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখায়। তারপর শুধুমাত্র একটি পেমেন্ট সমস্যা সমাধান করতে পারে বলে জানায়।
এটি একটি অবিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার হলেও অনেক অস্ট্রিয়ান ইন্টারপোল পুলিশের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে এই ভারতীয় টেলিফোন প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে ভাউচার ক্রয় এবং ফোনে তাদের কাছে ব্যাংক কোড দিয়ে অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রতারকরা মুহুর্তের মধ্যেই অর্থ আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সটকে পড়ে।
এই প্রতারক চক্রের অপরাধীরা ৩৯৭ জন অস্ট্রিয়ান নাগরিকের কাছ থেকে মোট ২৭ লাখ ইউরো চুরি করেছে বলে জানা গেছে। অস্ট্রিয়ান পুলিশ জানিয়েছে এই ভূয়া ইন্টারপোল এজেন্টের ব্যাপারে তাদের কাছে আরও ১,১০০ টি রিপোর্ট করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে একজন ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রিয়ান ক্রিমিনাল পুলিশ, ইউরোপোল, ইন্টারপোল এবং ভারতীয় গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় অত্যন্ত সুসংগঠিত এই অপরাধীদের ট্র্যাক করতে ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
অস্ট্রিয়ান ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের ডিরেক্টর আন্দ্রেয়াস হোলছার এই টেলিফোন প্রতারকদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সহযোগিতা করার জন্য ইউরোপো,ইন্টারপোল এবং ভারতের রাজধানীর দিল্লির পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
আমরা ইউরো বাংলা টাইমসের পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সকলকে অজ্ঞাত টেলিফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমো ইত্যাদির জালিয়াতির থেকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি। একটি জিনিস লক্ষ্যণীয় বা খেয়াল রাখবেন অস্ট্রিয়ান ফেডারেল প্রশাসন বা পুলিশ সাধারণত রেজিস্ট্রেশন চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন। আর ফোন করলেও অফিসের সময় ছাড়া অন্য সময় কোন ফোন করেন না।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস