ঢাকা প্রতিনিধি: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে সরকার। বলেন, প্রতিটি আঘাতের সমান ও বিপরীত জবাব দেওয়া হবে। কাউকে গ্রেপ্তার করে বিএনপির আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। তারা সবাই আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের একজন মন্ত্রী যিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উনি প্রতিদিন বলেন খেলা হবে। এটা তো ফিউচার টেনসে বলেছে, প্রেজেন্ট টেন্সে বলবে না খেলা চলছে। আপনি কামরুজ্জামান রতনকে গ্রেপ্তার করেছেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা কামালকে গ্রেপ্তার করেছেন। এটা কি খেলার অংশ না? সারা দেশে সমাবেশ যাতে না হয়, তার জন্য অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটা কি খেলার অংশ? বিএনপির সমাবেশের দুই দিন আগে বাস মালিকদের ধর্মঘট ডাকে এটাও তো আপনার খেলার অংশ। কারণ আপনার নির্দেশ ছাড়া এই বাস মালিক সমিতি ধর্মঘট ডাকার কথা না। বিএনপির সমাবেশ শেষে তাদের ধর্মঘটও শেষ হয়। এটা তো ওবায়দুল কাদের ও শেখ হাসিনার খেলার অংশ।’
রিজভী বলেন, ‘খেলা দেখাচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে। বিদ্যুতের নাকি বন্যা বয়ে গেছে। হাইওয়ে, বড় বড় ফ্লাইওভার উন্নয়নে গোটা দেশ ছড়িয়ে গেছে। দেশের মানুষের আয় বেড়েছে ২১৩৪ ডলার। আবার প্রধানমন্ত্রী একবার বলছে দুর্ভিক্ষ হবে, আবার বলছে হবে না। এই যে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী। মানুষের যদি এত আয় বেড়ে থাকে, তাহলে দুর্ভিক্ষ হবে কেন? কিন্তু দুর্ভিক্ষ চলছে। সরকারি চাল ৩০ টাকা কেজি যে ট্রাকগুলোতে দেবে, সেই ট্রাকগুলোর পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ দাঁড়িয়ে থাকছে চালের জন্য। এটাই তো দুর্ভিক্ষের আলামত। ওবায়দুল কাদের ফিউচার টেন্সে বলেন খেলা হবে। কিন্তু খেলা তো চলছে। মানুষের আহার নিয়ে, খাদ্য নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে। এসব দেশের জনগণ দেখছে। এর হিসাব কিন্তু আপনাকে একদিন দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘ফুটবল খেলার মাঠে কিন্তু আত্মঘাতী গোলও আছে। অর্থাৎ নিজেদের প্লেয়ার নিজেদের গোল পোস্টেই গোল করে দেয়। ওবায়দুল কাদেররা কিন্তু সেই ধরনের আত্মঘাতী খেলোয়াড়। যেমন ওয়ান ইলেভেনে ওবায়দুল কাদের, আবদুল জলিল, শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম বলেছে, শেখ হাসিনা কার কার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে। তাই ওবায়দুল কাদের যখন খেলার কথা বলবে, তখন শেখ হাসিনা আপনিও সাবধান হয়ে যান। কারণ সে বিপদে পড়লে আপনার সব কথা কিন্তু সে বলে দিবে।’
রুহুল কবির রিজভী অবিলম্বে কামরুজ্জামান রতনসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এমএইচ