ভোলা সদর প্রতিনিধি: দুর্ঘটনা-দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২ ।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দিনটি উপলক্ষে সকাল ১১ টায় ভোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জাম। তালহা তালুকদার বাঁধন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক।
অগ্নিনির্বাপণ ও নানা দুর্যোগে দায়িত্ব পালন করা সংস্থাটি বুধবার (১৬ নভেম্বর) পর্যন্ত তিন দিনের ‘ফায়ার সপ্তাহ-২০২২’ ঘোষণা করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২ দিবসটি উপলক্ষে প্রথমে ভোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এর উপ-সহকারী পরিচালক অতিথিদের কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় সংগীত এর মধ্যে দিয়ে জাতীয় ও ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্স এর প্রাতিষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিরা। এরপর পায়রা উড়িয়ে দিবসটির কার্যক্রমের সূচনা করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিবেক সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তারা অগ্নুিকান্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তারা আরো বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সব দুর্যোগে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা। সবার আগে তারা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এ প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। তাদের আত্মবিসর্জনের এ ঘটনাই প্রমাণ করে দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা কতটা নিবেদিত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ ১৩ জন বীর অগ্নি সেনা কে অগ্নিবীর উপাধিতে ভূষিত করেছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সেবা প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ২০০৯ সালের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৮৬টি নতুন ফায়ার স্টেশন চালু করা হয়েছে। ২০০৯ সালের আগে দেশে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ছিল ২০৪টি। এখন এর সংখ্যা বেড়ে এরইমধ্যে ৪৯০টিতে হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন করা হবে।
সভায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় দেশের জান-মাল রক্ষা করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সব সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এছাড়াও অগ্নি দুর্ঘটনাসহ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগ-দুর্ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণকে আরও সচেতন করার লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানামুখী প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য আহবান জানান বক্তারা।
সিমা বেগম/ইবিটাইমস