মোঃ নাসরুল্লাহ, ঢাকা: গেল ৪ অক্টোবরের গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে এবার ৪ বিতরণ কোম্পানি আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করেছে। সোমবার (১৭ অক্টোব) বিতরণ কোম্পানিগুলো এই কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (১৬ অক্টোবর) পিজিসিবির কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দেয়। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিতরণ কোম্পানির কারা দায়ী তা খুঁজে বের করে চলতি সপ্তাহের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এরপরপরই বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে সোমবার বিতরণ কোম্পানিগুলোকে পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। নির্দেশনা অনুসারে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) পৃথক পৃথক কমিটি গঠন করেছে।
এরইমধ্যে ডিপিডিসি প্রধান প্রকৌশলী (গ্রিড) এ এইচ এম মহিউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির গঠন করেছে। অন্যদিকে, ডেসকোর তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী (নেটওয়ার্ক অপারেশন) মো. মনজুরুল হক। পিডিবির চার সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেনকে। এছাড়া আরইবির কমিটির আহ্বায়ক হলেন প্রধান প্রকৌশলী (পওপ) মো. মহিউদ্দীন। প্রত্যেক কমিটিতে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন করে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিচার-বিশ্লেষণ করে জানাবে আসলেই সেদিন কী ঘটেছে। ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলীও একই মন্তব্য করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের পরামর্শ অনুসারে গ্রিড বিপর্যয়ের দিন সঠিকভাবে কর্তব্য পালন না করায় সঞ্চালন ব্যবস্থাপনা সুরক্ষা দায়িত্বে থাকা পিজিসিবির সিস্টেম প্রোটেকশন ও মিটারিং বিভাগের দুই প্রকৌশলীকে রোববার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনায় পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (পিঅ্যান্ডডি) মো. ইয়াকুব এলাহীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের একটি কমিটি ও বিশেষজ্ঞদের আরেকটি কমিটি এই গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা পর্যালোচনা করছে।
আরএন/ইবিটাইমস/ঢাকা