ভিয়েনায় চলমান করোনার বিধিনিষেধ বর্ধিত

মেয়র মিখাইল লুডভিগ ভিয়েনার ন্যায় করোনার চলমান বিধিনিষেধ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় প্রসারিত করার অনুরোধ করেছেন

ব্যুরো চীফ, অস্ট্রিয়াঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ার ফেডারেল রাজ্য ও রাজধানী ভিয়েনা তার চলমান করোনার ব্যবস্থা আরও বর্ধিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ভিয়েনায় বর্তমানে করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে (সমগ্র গণপরিবহনে) বাধ্যতামূলক FFP2 মাস্ক পরা এবং সেইসাথে বৃদ্ধ ব্যক্তিদের বৃদ্ধাশ্রম এবং বয়স্ক নার্সিং হোমে প্রবেশে করোনার পিসিআর পরীক্ষা এবং মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা। তাছাড়াও ওষুধের ফার্মেসী,হাসপাতাল সহ সমগ্র স্বাস্থ্য পরিষেবায় বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার নিয়ম।

ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী Johannes Rauch সমগ্র অস্ট্রিয়ায় পুনরায় বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার নিয়ম শীগ্রই ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে,অস্ট্রিয়ায় গত সাত দিনে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১,০৬৭ জন।

এপিএ আরও জানায়,ফেডারেল রাজ্য ভিয়েনা সহ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণ পুনরায় বেড়ে যাওয়ায় ভিয়েনার স্থানীয় একটি সম্প্রচার কেন্দ্রে মেয়র মিখাইল লুডভিগ বলেন,”আমরা এখন বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রত্যাশিত একটি নতুন শরতের তরঙ্গের মধ্যে আছি।” তিনি আরও বলেন উচ্চ সংখ্যক পরীক্ষা হওয়া সত্ত্বেও, ভিয়েনার করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা জাতীয় গড় থেকে বেশ কম, তবে এখানেও এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর থেথে ভিয়েনায় করোনার সংক্রমণের বিস্তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

ভিয়েনার মেয়র লুডভিগের মতে, “সাত দিনের ঘটনা ২,০০০ হাজার পর্যন্ত অনুমান করা হচ্ছে যা বসন্ত এবং গ্রীষ্মের তরঙ্গের মধ্যে একটি পরিস্থিতির সাথে মিলে যায়। “এটি হাসপাতালগুলির জন্য একটি অতিরিক্ত চাপের পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে,” তিনি সতর্ক করেন।

“আমরা শীতকালে আরেকটি করোনা তরঙ্গের মুখোমুখি হচ্ছি, যেটি সম্ভবত একটি নতুন রূপের দ্বারা জ্বালানী হতে পারে এবং একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা তরঙ্গের সাথে মিলিত হতে পারে। এর অর্থ হাসপাতালের উপর একটি অতিরিক্ত বা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বোঝা হতে পারে – সবই একটি ভ্যাকসিনেশন হারের পটভূমিতে যার উন্নতি প্রয়োজন এবং অনাক্রম্যতা হ্রাস,” লুডভিগ ব্যাখ্যা করে বলছিলেন উক্ত সম্প্রচার কেন্দ্রে।

লুডভিগ ফেডারেল সরকারের কাছে কঠোর করোনা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, দেশব্যাপী পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে ফেডারেল সরকারের তাই ২৩ অক্টোবরের পরে ভিয়েনা স্তরে ব্যবস্থা বাড়ানো উচিত – অর্থাৎ বর্তমান অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে।

যদি বর্তমান তরঙ্গের প্রবণতা পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান না হয়, তবে ফেডারেল সরকারকে অবশ্যই সময়মতো আরও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে, লুডভিগ বলছিলেন। ভিয়েনা নিশ্চিত যে আরও পিসিআর পরীক্ষা, দোকান বা স্কুলে উপযুক্ত স্ক্রিনিং এবং মুখোশের প্রয়োজনীয়তার সম্প্রসারণ, উদাহরণস্বরূপ প্রয়োজনীয় দোকানগুলিতে, সেইসাথে সংক্রামিত ব্যক্তিদের নতুন করে বিচ্ছিন্নকরণ আবার প্রয়োজন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাউখ করোনার উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছে এপিএ। স্বাস্থ্যমন্ত্রণী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে তিনি মুখোশের বা মাস্কেে প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আপাতত পর্যবেক্ষক মোডে থাকতে চান। যাই হোক না কেন, ২৩ শে অক্টোবর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, কারণ সেই সময়ই বর্তমান প্রবিধানের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।.বর্তমানে করোনার সংক্রমণের সংখ্যায় একটি পাশ কাটিয়ে আন্দোলন চলছে। যাইহোক, যদি হাসপাতালগুলিতে ব্যাপক ওভারলোডের হুমকি থাকে তবে একটি মুখোশের বা মাস্ক পড়ার প্রয়োজনীয়তা খুব ভাল হতে পারে।

ভিয়েনার FPÖ বস ডমিনিক নেপ লুডভিগের অগ্রযাত্রায় সামান্যই আনন্দিত। তিনি মেয়র লুডভিগের সমালোচনা করে বলেন, মেয়র করোনা হিস্টিরিয়া নিয়ে ভিয়েনীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় লাল বিপর্যয় থেকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিলেন। তবে, এটি করোনা নয়, সিটি কাউন্সিলর ফর হেলথ পিটার হ্যাকার (SPÖ) এবং তার হাসপাতাল ম্যানেজাররা যারা হাসপাতালগুলোতে কর্মী সংকটের জন্য দায়ী।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৩,৫৯৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ জন। রাজধানী ভিয়েনায়
আজ নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ২,৫৫৯ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে ÖO রাজ্যে ২,৬৭৬ জন,NÖ রাজ্যে ২,৬৬৪ জন, Steiermark রাজ্যে ১,৯৭৫ জন,Tirol রাজ্যে ১,০২৬ জন,Kärnten রাজ্যে ৯৩১ জন, Salzburg রাজ্যে ৭৮২ জন,Vorarlberg রাজ্যে ৫২২ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৪৬৪ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩,০৫,৭২৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২০,৮৯৫ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৫১,৪৬,৯৫৩ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১,৩৮,৫২৪ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১২৫ জন এবং হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ২,৪২৫ জন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে করোনার বৈধ প্রতিষেধক টিকার সনদধারী ৬১,৯৪,৩৩৯ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৮,১ শতাংশ। অস্ট্রিয়ায় আজ করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১১২ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার চতুর্থ ডোজ নিয়েছেন ২০,০৬১ জন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »