ভাতা কার্ডের জন্য আহাজারি চাতালের নারী শ্রমিকদের

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ শৈলকুপার পৌর এলাকার হাবিবপুর চরপাড়ার চাতাল শ্রমিক মোমেনা খাতুন। ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যায়। সংসার চালাতে নিজেই নেমে পড়েন কাজে। ধান শুকানোর কাজ নেন একটি চাতালে। থাকার মতো নিজের কোন ঘর না থাকায় চাতাল মালিকের দেওয়া ঝুপড়ী ঘরে বসবাস করছেন। চাতালে ধান শুকানো থাকলে প্রতি বস্তায় তারা ১৫ টাকা করে পান। তাতে একশ থেকে দেড়শ টাকা আয় হয় প্রতিদিন। না থাকলে আয় নেই। দালালের টাকা দিতে না পারায় এবারও হলো না এ নারী শ্রমিকের বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্ত সরকার ঘোষিত ভাতার কার্ড।

একই এলাকার চাতাল শ্রমিক কোতরি বেগম। স্বামী হারা হয়েছেন ২০ বছর আগে। তার অবস্থাও একই। সংসারের হাল ধরতে তিনিও নেমেছেন চাতালে ধান শুকানোর কাজে। সেখানে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনরকমে চলে তার সংসার।

অন্যদিকে চাতাল শ্রমিক নুরজাহান বেগম। স্বামী মারা গেছেন ২০ বছর আগে কিন্তু বিধবা ভাতার কার্ড পাননি তিনিও। এ এলাকার অধিকাংশ চাতাল শ্রমিকের একই অবস্থা। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার দাবি মাইকিং করা হয়েছিল,যারা অনলাইনে আবেদন করেছে সবারই ভাতা কার্ড হয়েছে।

চাতাল শ্রমিক মোমেনা খাতুন বলেন, ১৫ বছর ধরে চাতালে ধান শুকানোর কাজ করছি। চাতাল মালিকের দেওয়া ঝুপড়ী ঘরে থাকি। সরকার গরিবদের জন্য এতকিছু দিলেও তা আমাদের ভাগ্যে জোটেনি।

চাতাল শ্রমিক নুরজাহান বেগম জানান, তার স্বামী মারা গেছেন ২০- ২২ বছর আগে। সেই থেকে তিনি হাবিবপুরে চাতাল শ্রমিকের কাজ করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হয়নি তার বিধবা ভাতার কার্ড ।

একই চাতালে কাজ করা চাতাল শ্রমিক কোতরি,জামেনা,চায়না জানান, দীর্ঘদিন স্বামীহারা হয়ে চাতালে কষ্টে দিনযাপন করলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা তারা পান না। ভোট এলেই বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়।ভোট গেলেই আর খোজ থাকে না তাদের।

সংশ্লিষ্ট ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোজাহারুল ইসলাম জানান, পৌরসভা থেকে প্রতিটি এলাকায় ভাতার জন্য মাইকিং করা হয়েছিল।যারাই তার কাছে আইডি কার্ড জমা দিয়েছে নিজের টাকা খরচ করে তিনি তাদের অনলাইনে ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। চাতাল শ্রমিকদের দাবি ঠিক নয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ জানান, মাইকিং করা হয়েছিল। যারা অনলাইনে আবেদন করেছিল যাচাইয়ের পর তারা ভাতার জন্য মনোনীত হয়েছেন। যদি চাতাল শ্রমিকরা এবার না পেয়ে থাকে তাহলে খোজ নিয়ে পরবর্তীতে তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

শেখ ইমন/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »