স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন হতে কঠিন লক্ষ্য পার হতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৭৩ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোটেই বেগ পেতে হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। আট উইকেটের জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হলো অসিরা।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা থাকলেও টি-টোয়েন্টিতে এতদিন সেটি অধরা ছিল তাদের। সেই আক্ষেপ শেষ হলো অসিদের। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ পেল তারা। সেই সঙ্গে এই ফরম্যাটে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ক্রিকেট বিশ্ব। আর পর্দা নামল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের।
অন্যদিকে বৈশ্বিক আসরে টানা তিনটি ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়নের তকমা পেল না নিউজিল্যান্ড। ২০১৫ ও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে শূন্য হাতে ফিরল কেন উইলিয়ামসন দল।
রোববার দুবাইতে বিশ্বকাপের ফাইনালে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটে ১৭২ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে সাত বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুর দিকে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে (৫) হারালেও অসিদের একদমই চাপে পড়তে দেননি আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। মিচেল মার্শকে সঙ্গে করে জয়ের রাস্তাটা সহজ করে দেন তিনি। ১৩ ওভার পর্যন্ত উইকেটে টিকে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৩৮ বলে তাঁর ইনিংসে ছিল ৪ বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কা।
ওয়ার্নার ফিরলে বাকি কাজ সারেন মিচেল মার্শ। দুবাইয়ের মাঠে ঝড় তোলেন মার্শ। মাত্র ৩১ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তাঁকে সঙ্গ দেওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও খেলেন হাতখুলে। ব্যাটসম্যানদের জ্বলে ওঠার দিনে জয় নিয়ে ভাবতেই হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। একেবারেই লড়াই ছাড়া ১৮.৫ ওভারে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়া। ৫০ বলে ৭৭ রান করেন মিচেল মার্শ। ম্যাক্সওয়েল করেন ১৮ বলে ২৮ রান।
এর আগে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করতে নেমে বাউন্ডারিতে রানের খাতা খোলে নিউজল্যান্ড। দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও ড্যারিল মিচেল ভালো শুরুর আভাস দেন। তবে ওপেনিং জুটি থিতু হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি এনে দেন জশ হেইজেলউড।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হেইজেলউডের অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা লেংথ বল ড্রাইভ করার চেষ্টা করেন মিচেল। কিন্তু তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। অসি কিপার ম্যাথু ওয়েড ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিতে ভুল করলেন না। দলীয় ২৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড, ১১ রান করে আউট হন সেমিফাইনালের জয়ের নায়ক মিচেল।
মিচেল ফেরার পর জুটি বাধেন উইলিয়ামসন ও গাপটিল। তবে শুরুর ধাক্কার পর রানের গতি কমে যায় কিউইদের। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে তাদের স্কোর বোর্ডে ওঠে ৩০ রান।
খেলার ১২তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন গাপটিল। জাম্পার ওভারের প্রথম বলে ছক্কার চেষ্টা করেন গাপটিল। তবে টাইমিং ঠিক হয়নি। মিড উইকেট সীমানায় ক্যাচ উঠে যায়। সেখানে থাকা স্টয়নিস লুফে নিতে ভুল করলেন না। ওপেনিংয়ে নেমে ভালো শুরু আভাস দিয়েও সফল হলেন না গাপটিল। রান নিতে খুব ধুঁকেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফরে গেছেন ৩৫ বলে ২৮ রান করে। দলীয় ৭৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।
গাপটিল ফেরার পর রানের গতি অবশ্য বাড়ান অধিনায়ক উইলিয়ামসন। টানা দুই ছক্কায় ৩২ বলে তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ১৪তম হাফসেঞ্চুরি। হাফসেঞ্চুরির পর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন কিউই অধিনায়ক। শুরুর দিকে মন্থর থাকা রানের চাকা দ্রুতই বাড়ান তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন গ্লেন ফিলিপস। এই জুটিতে আসে ৬৮ রান। ১৮তম ওভারে ফিলিপসকে ফিরিয়ে এই শক্ত জুটি ভাঙেন হেইজেলউড। ১৭ বলে ১৮ রান করেন তিনি।
ফিলিপসের পর ভাঙে উইলিয়ামসনের প্রতিরোধও। দুর্দান্ত খেলতে থাকা উইলিয়ামসনকেও আউট করেন হেইজেলউড। ১৪৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ১০ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৮৫ রান করে ফেরেন উইলিয়ামসন। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
উইলিয়ামসন ফেরার পর শেষ দিকে জিমি নিশাম ও টিম সেইফার্টদের ব্যাটে চড়ে শেষ পর্যন্ত ১৭২ রান করে নিউজিল্যান্ড। ৭ বলে ১৩ রান করেন নিশাম। ৮ রান করেন সেইফার্ট।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে মাত্র ১৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন জশ হেইজেলউড। ২৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন অ্যাডাম জাম্পা।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এমএইচ