সোমবার ৮ নভেম্বর থেকে সমগ্র অস্ট্রিয়ায় ২-জি নিয়ম বাধ্যতামূলক

গ্যাস্ট্রোনমি, শরীর-আলিঙ্গন পরিষেবা, হোটেল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য এলাকায় যেখানে ৩জি আগে কার্যকর ছিল সেখানে সোমবার থেকে ২জি নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে সমগ্র অস্ট্রিয়ায় আগামী সোমবার ৮ নভেম্বর থেকে একসাথে ২জি নিয়ম কার্যকর হচ্ছে৷ অর্থাৎ সোমবার থেকে কেবলমাত্র যারা করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেছেন এবং করোনা থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন, উদাহরণস্বরূপ তারাই কেবল রেস্টুরেন্ট, বার বা সেলুনে প্রবেশ করতে পারবেন।

সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গের নেতৃত্বে ফেডারেল সরকার দেশের ৯ টি রাজ্যের গভর্নরদের সাথে সংক্রমণের সংখ্যার তীব্র বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকার প্রধানের কার্যালয়ে এক জরুরী বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের পর রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফেডারেল সরকারের পক্ষে চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ(ÖVP) নতুন এই  বিধিনিষেধের ঘোষণা দেন এবং উপস্থাপন করেন।

সরকার প্রধান চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ বলেন, ফেডারেল সরকার ও প্রাদেশিক রাজ্য গভর্নরদের সাথে বৈঠকের পর সরকার করোনা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  আগামী সোমবারের থেকে অস্ট্রিয়ার জনজীবনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি ২জি বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। এর মানে হল, উদাহরণস্বরূপ, আপনি শুধুমাত্র রেস্তোরাঁ, থিয়েটার, কনসার্ট, ক্রীড়া ইভেন্ট বা হেয়ারড্রেসারে প্রবেশ করতে পারবেন যদি আপনি করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করে থাকেন অথবা করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন। তবে তিনি আরও জানান কর্মক্ষেত্রে এখনও ২,৫ নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে।

অস্ট্রিয়ায় করোনার ১-জি নিয়ম বলতে বুঝায় করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করা। ২-জি নিয়ম বলতে বুঝায় করোনা থেকে সম্প্রতি আরোগ্য বা সুস্থতা লাভ করা। ২,৫ জি নিয়ম বলতে বুঝায় করোনার টিকা গ্রহণ,আরোগ্য লাভ এবং করোনার পিসিআর পরীক্ষা। আর করোনার ৩-জি বলতে বুঝায় করোনার প্রতিষেধক টিকা,করোনা থেকে আরোগ্য লাভ, করোনার পিসিআর পরীক্ষা এবং করোনার এন্টিজেন পরীক্ষা। তবে সোমবার থেকে করোনার এন্টিজেন পরীক্ষা আর কোথাও অফিসিয়াল হিসাবে গণ্য বা গ্রহণ করা হবে না।

গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগ্যাং মুকস্টাইন (গ্রিনস) বলেন,করোনার বর্তমান বিধিনিষেধের ব্যবস্থাগুলি প্রায় সর্ব সম্মিতিক্রমে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বুর্গেনল্যান্ড রাজ্য কড়াকড়ি বিধিনিষেধের বিপক্ষে ছিল কেননা অস্ট্রিয়ার রাজ্য সমূহের মধ্যে এই রাজ্য টিকাদান কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে রয়েছে। ফলে বুর্গেনল্যান্ড রাজ্যে করোনার সংক্রমণের বিস্তারের পরিমাণও অনেক কম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন করোনার পিসিআর পরীক্ষার সাথে প্রথম টিকাকরণ চার সপ্তাহের একটি ট্রানজিশন সময়ের মধ্যে স্বীকৃত হবে।  এর পরে আপনাকে দুবার টিকা দিতে হবে বা গত ছয় মাসে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।  নিনজা পাসপোর্টটি ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে। শীর্ষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অস্ট্রিয়ার করোনার টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণের পর স্বীকৃত গ্রিন পাসের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে নয় মাস করা হয়েছে। করোনার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য গ্রিনপাসের এই মেয়াদ কমানো হয়েছে।

করোনার চলমান চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে শুধুমাত্র ভিয়েনায় গণপরিবহন ও কেনা-কাটায় এফএফপি২ (FFP2) মাস্ক পড়ার নিয়ম থাকলেও অন্য কোন রাজ্যে ছিল না।

গতকালের শীর্ষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই সকল প্রকার কেনাকাটায় ও গণপরিবহনে এই এফএফপি২ মাস্ক পড়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশের শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা সরকারকে দেশের সর্বত্র এই এফএফপি২ মাস্ক পড়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ করে আসছিলেন।

এপিএ জানায়,সোমবার থেকে সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই সব ধরনের কেনা-কাটার দোকানে, লাইব্রেরি এবং জাদুঘরে, এই FFP2 মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক। বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ জন বা তার উপরের মানুষের সমাবেশ,অনুষ্ঠান বা বৈঠকেও ২-জি নিয়ম ও এফএফপি২ মাস্ক পড়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক। সোমবার থেকে সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই একই নিয়ম ঘোষণার পর বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যের জেলার প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নেয়া হবে সোমবার থেকেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ফেডারেল চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ অস্ট্রিয়ার বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত “গুরুতর” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন আসন্ন ক্রিসমাস ছুটির দিন এবং পর্যটন ঋতুকে সামনে রেখে – টিকাবিহীনদের লাগাম শক্ত করতে হবে।  গাড়িতে আপনি সিটবেল্ট বাঁধেন এবং ভ্যাকসিনেশন হল মহামারীতে সিটবেল্ট।স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগ্যাং মুকস্টাইন জোর দিয়ে বলেন যে, তার কাজটি দেশের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলিকে (I.C.U) রক্ষা করা এবং তিনি এটি মেনে চলবেন। তিনি জনগণের কাছে এক উদাত্ত আহবানে সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ করেন।

গতকালের শীর্ষ সম্মেলনের বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের চেয়ারম্যান অস্ট্রিয়ার Tirol রাজ্যের গভর্নর গুন্থার প্ল্যাটার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সহমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অস্ট্রিয়ার প্রতিটি নাগরিকের করোনার প্রতিষেধক টিকা নেয়া একটি “নৈতিক বাধ্যবাধকতা”।করোনার প্রতিষেধক টিকার তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ করোনার নতুন সংক্রমণের বিস্তার হ্রাসে একটি কৌশলের জন্য টিকাদান কর্মসূচিকে আরও ত্বরান্বিত করতে হবে। মুকস্টাইন  উল্লেখ করেছেন যে, করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস পরে টিকার ক্ষমতা কমে আসে।তখন করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণের পরেও বর্তমানে এই কারণেও অনেক মানুষ টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণের পরেও এখন নতুন করে পুনরায় সংক্রমিত শনাক্ত হচ্ছেন।

অস্ট্রিয়ার Kärnten রাজ্যের গভর্নর পিটার কায়সারও (SPÖ) করোনার তৃতীয় টিকাকে আরও বেশি করে অপরিহার্য বলেছেন।

শুক্রবার অস্ট্রিয়ায় একদিনে করোনার নতুন সংক্রমণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৩৮৮ জন এবং একইদিনে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩২ জন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »