অস্ট্রিয়ায় করোনা পরিস্থিতির অব্যাহত অবনতির ফলে উদ্বিগ্ন সরকার

শুক্রবার ৯ রাজ্যের গভর্নরদের সাথে জরুরী বৈঠকে বসছে অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় ফেডারেল সরকার

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণের বিস্তার বিস্ফোরণের মতই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে করোনার এই নতুন চতুর্থ প্রাদুর্ভাবে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তাই সরকার আগামী শুক্রবার ৫ নভেম্বর অস্ট্রিয়ার ৯ টি ফেডারেল রাজ্যের গভর্নরদের সাথে বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করতে জরুরী বৈঠকে বসছে সরকার প্রধানের কার্যালয়ে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সতর্কতা: অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন (গ্রিনস) আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের দুই রাজ্য ভিয়েনা ও বুর্গেনল্যান্ড ব্যতীত বাকী ৭ টি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি দিনের পর দিন আরও অবনতি হচ্ছে। ফলে এই সমস্ত রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রচন্ড চাপ বাড়ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশঙ্কা করছেন করোনা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান অবনতি আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যেই বেশী আক্রান্ত রাজ্য সমূহের স্থানীয় প্রশাসন তাদের রাজ্যে করোনার বিধিনিষেধ আরোপ করছে। নাটকীয়ভাবে ক্রমবর্ধমান করোনার সংখ্যার আলোকে, আগামী শুক্রবার ভিয়েনায় সরকার ও প্রাদেশিক রাজ্য গভর্নরদের মধ্যে একটি জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত নিবিড় পরিচর্যা রোগীদের জন্য আইসিইউ বেড ৩০০ থ্রেশহোল্ড উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। যার অর্থ বর্তমানে এখন ধাপে ধাপে পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপ ও তৃতীয় ধাপ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে এই জরুরী বৈঠকে রাজ্য গভর্নররা স্বশরীরে সরকার প্রধানের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন।অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ(ÖVP) করোনা সম্পর্কিত এই জরুরী বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। গত সপ্তাহেই চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শ্যালেনবার্গ দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

ফেডারেল সরকারের ধাপে ধাপে পরিকল্পনা: অস্ট্রিয়ার ফেডারেল সরকারের ধাপে ধাপে পরিকল্পনা সম্প্রতি আঞ্চলিক প্রধানদের জন্য খুব ধীরগতিতে চলে গেছে, কারণ ভোরালবার্গ এবং বুর্গেনল্যান্ড ছাড়া সমস্ত রাজ্য ভিয়েনার উদাহরণ অনুসরণ করেছিল এবং ঘোষণা করেছিল যে ৮ ই নভেম্বর থেকে ব্যবস্থাগুলিকে তীক্ষ্ণ করা হবে৷ ক্রমবর্ধমান সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে, যাইহোক, পদক্ষেপগুলি শীঘ্রই ধাপে ধাপে পরিকল্পনার ৩ ধাপে প্রবেশের মাধ্যমে অতিক্রম করা যেতে পারে, যা কার্যকর হয় যখন ৪০০ টি নিবিড় পরিচর্যা শয্যা(I.C.U) করোনা রোগীদের দখলে থাকে।

এপিএ আরও জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান অবনতির ফলে আগামী ৮ নভেম্বর থেকেই সরকারের করোনার বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ এক সাথে কার্যকর হতে পারে। ধাপে ধাপে পরিকল্পনা নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের ক্ষমতা ব্যবহারের উপর নির্ভর করছে।

৮ নভেম্বর থেকে, অস্ট্রিয়ায় করোনা ধাপে ধাপে পরিকল্পনার লেভেল ২ কার্যকর হবে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেভেল ৩ একই দিনে কার্যকর হতে পারে – কারণ এখানে কোন লিড টাইম নেই।

আজ নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে কোভিড ১৯ রোগীদের জন্য ৩০০ থ্রেশহোল্ডে পৌঁছে যাওয়ার পরে, ফেডারেল সরকারের ধাপে ধাপে পরিকল্পনা অনুসারে দ্বিতীয় পর্যায়টি ৮ নভেম্বর কার্যকর হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ আজ মঙ্গলবার জারি করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এপিএ-র অনুরোধে।

বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ততক্ষণে ৪০০টি নিবিড় পরিচর্যা শয্যার থ্রেশহোল্ডে পৌঁছানো যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফেডারেল সরকারের করোনার লেভেল ৩ একই সময়ে লেভেল ৩ ? এর মানে হল যে, লেভেল ৩ একই সময়ে কার্যকর হবে। এই পর্যায়ে, ফেডারেল সরকার সম্মত হয়েছে যে সাত দিনের গ্রেস পিরিয়ড আর প্রযোজ্য হবে না।

বিভিন্ন ইভেন্টে এবং রাতের রেস্টুরেন্টে ২জি নিয়ম: বর্তমান ধাপে ধাপে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০০ করোনা নিবিড় পরিচর্যা রোগীর কাছে পৌঁছানোর সাত দিন পর দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হতে হবে। এর মানে হল যে একটি ২জি নিয়ম তখন রাত্রিকালীন ক্যাটারিং এবং ৫০০ শত জনের বেশি লোকের সাথে নির্ধারিত আসন ছাড়া ইভেন্টগুলিতে প্রযোজ্য, অর্থাৎ শুধুমাত্র যারা করোনার প্রতিষেধক টিকা নিয়েছে অথবা করোনা থেকে সম্প্রতি আরোগ্য লাভ করেছে তারাই প্রবেশ করতে পারবে।

উপরন্তু, পর্যায় দুটি স্ব-স্বীকৃতি সহ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা (“লিভিং রুম টেস্ট”) ৩জি(3G) এন্ট্রি নিয়ম সহ এলাকার প্রমাণ হিসাবে অস্ট্রিয়া জুড়ে আর বৈধ নয়।

পর্যায় ৩ : পিসিআর পরীক্ষা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা প্রতিস্থাপন করে – প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের সময়ও যদি ৪০০ শতটি নিবিড় পরিচর্যা শয্যার সংখ্যা অতিক্রম করা হয়, যার অর্থ হল ২০ শতাংশ নিবিড় পরিচর্যা ক্ষমতার ব্যবহার, ৩জি সহ এলাকায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষাটি অস্ট্রিয়া জুড়ে তার বৈধতা হারায়।  এর মানে হল যে শুধুমাত্র যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে, যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন বা যাদের বর্তমান পিসিআর পরীক্ষা আছে তারাই সর্বত্র প্রবেশাধিকার পাবে। সীমা অতিক্রম করা হলে এই পরিমাপ অবিলম্বে কার্যকর হয়।

এপিএ-এর অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোনও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও অ্যান্টিজেন পরীক্ষাগুলি আর গ্রহণ করা হবে না বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।  এর মানে হল যে টিকাবিহীন এবং অ-পুনরুদ্ধার করা ব্যক্তিদের একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলা বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য বা পাস করার জন্য PCR পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৫,৩৯৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৬২৭ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ১,২৮৮ জন,NÖ রাজ্যে ১,১০০ জন, Salzburg রাজ্যে ৯২৭ জন,Tirol রাজ্যে ৪৪৬ জন, Steirmark রাজ্যে ৪৫০ জন,Kärnten রাজ্যে ২০৩ জন,Vorarlberg রাজ্যে ২০১ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১৫৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে মাত্র ১,৮৯৯ ডোজ এবং মোট টিকাদানের পরিমাণ ১,১১,৭৫,১৬৩ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৫৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৬ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৪,১ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৪০,৯০২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১,৩৮০ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৭,৮০,০৫৩ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪৯,৪৬৯ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩১৭ জন এবং বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »