নেছারাবাদে ভিজিডির চাল ও শীতের কম্বল ৪ মাস ধরে পরে ইউপি গোডাউনে

ডিস্টিক্ট করেসপন্ডেন্ট; পিরোজপুর: পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ভিজিডি’র (দরিদ্র বিমোচন প্রকল্প) চাল ও সরকারের দেয়া শীতের কম্বল গত ৪ মাসের বেশী পড়ে আছে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে। চাল বিতরন না করায় তা নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের বিচার কক্ষে ৩৫-৪০ বস্তা ভিজিডি চাল পড়ে আছে। পাট ও প্লাস্টিকের বস্তায় সরকারী সিল সম্বলিত ওই সব চালের কয়েকটি বস্তার চাল ইতিমধ্যে পোকায় ধরে তা খাওয়ার অনুপুযুক্ত হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আমিনুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ও ইউপি সচীব চাঁদ নারায়ন চক্রবর্তী মিলে কিছু ধনী লোকের নামে এ চাল পাওয়ার কার্ড করে দিয়েছেন। ওই সব ধনী লোকেরা লোকলজ্জায় চাল নিতে না আসায় চালগুলো পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব চাঁদ নারায়ন চক্রবর্তী’র কাছে ওই সব চাল এভাবে ফেলে রাখার কারন জানতে চাইলে নিজের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চেয়ারম্যানের তালিকা ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের তালিকায় নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় চাল বিতরনে চেয়ারম্যানের অনুমতি মিলছে না।

এ ছাড়া ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচীবের কক্ষের পাশেই ২টি বস্তায় শতাধীক কম্বল পড়ে আছে। সচীবের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই সব কম্বল গত জানুয়ারী মাসে শীতে অসহায়দের জন্য আসলেও চেয়ারম্যান মেম্বারদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারনে তা বিতরন করা সম্ভব হয় নি।

তবে চেয়ারম্যান শাহিন আহম্মেদ কম্বলের ব্যপারে বলেন, ১১৫ পিচ কম্বল সকল ইউপি সদস্যদের সাথে আলাপ করে ও তাদের সহযোগীতা নিয়ে তা বিতরনের জন্য বলেছি। কি কারনে সচীব তা বিতরন করেন নি আমি তা বলতে পারবো না।

এ দিকে ইউপি সদস্য শুকলাল বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও গরীবদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফ এর ৪৫০ টাকা ঈদের আগে দেয়ার কথা থাকলেও তা ঈদের একসপ্তাহ পর দেয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয় জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন আহম্মেদের সাথে কথা হলে তিনি এমন সব অভিযোগের সাথে নিজের কোন ধরনের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি স্বচ্চতার ভিত্তিতে প্রকৃত গরীব ও অসহায়দের মাঝে এ সাহায্যগুলো প্রদানের তালিকা করতে ইউপি মেম্বার সহ সচীবকে বলেছেন। কিন্তু ইউপি মেম্বাররা খেয়ালখুশী মতো ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতারা তাদের চাহিদা মতো এসব সাহায্য বিতরেন জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করেন।তাদের চাহিদা মিটাতে ব্যার্থ হওয়ায় এ চাল ও কম্বল বিতেরনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদে জমা থাকা চালের ব্যাপারে ইন্দুরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ওই সব চাল জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসের ভিজিডির চাল।

এইচ এম লাহেল মাহমুদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »