নতুন যুগে বাংলাদেশ; পরীক্ষামূলকভাবে চলল মেট্রোরেল

ভিডিও দেখতে ভিজিট করুন:  https://youtu.be/lVPTMvTBO78

ঢাকা: মহানগর পরিবহনে রেলপথ সংযুক্ত করে নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১১মে) দেশে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য জাপান থেকে যে ছয়টি কোচ আনা হয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি ডিপোতে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের সময় মেট্রোরেলের ডিপোর ‘আনলোডিং এরিয়ায়’ ধীর গতিতে বৈদ্যুতিক এই ট্রেন চালিয়ে দেখানো হয়। এসময় জাপান, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে ছিলেন।

ডিপোর হল রুমে মেট্রোরেলের প্রথম সেটের প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশের বেশি। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৮৫ শতাংশ। আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের চলমান কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ। এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল মেকানিক্যাল সিস্টেম, রোলিং স্টোন ও ডিপোর ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি প্রায় ৫৫ শতাংশ।

কাদের জানান, ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ নয় মাস আগেই শেষ হয়েছে। এর ফলে সরকারের ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের ইরেকশন সম্পন্ন হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এমআরটি-৬ প্রকল্পের সব ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ভায়াডাক্টের ওপরে সাড়ে ১০ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ভায়াডাক্টের ওপরে মূল রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেনের ‘পারফর্ম্যান্স টেস্ট’ শুরু করা হবে। এরপর ‘ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট’ করা হবে এবং ট্রেনের ‘ট্রায়াল রান’ শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে জাইকার আবাসিক প্রতিনিধি ইউহো হায়াকাওয়া বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি নমুনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ডিএমটিসিএল এবং জাইকা দুইপক্ষই মহামারির মধ্যেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটি ঢাকা শহরের গণপরিবহণের চেহারা পাল্টে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের উন্নয়নের মাইলফলকের এই প্রকল্পে অংশীদার হতে পেরে আমরা সত্যি গর্বিত। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে এই প্রকল্পটির অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। এজন্য তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকা শহরে বছরে এক লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃস্বরণ কমবে। যানজট কমিয়ে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই রেলের ছয় কোচের প্রতিটি সেট একসঙ্গে আগে ভাড়া পরিশোধ সিস্টেমে এক হাজার ৭০০ যাত্রী পরিবহণ করবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালে মেট্রোরেলে চড়তে পারবেন রাজধানীর মানুষ।

ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »