অস্ট্রিয়ান সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্যাকেজ উপস্থাপন

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী ও সংহতি বিষয়কমন্ত্রী ভিয়েনায় আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে সন্ত্রাস বিরোধী প্যাকেজটির বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় গত বছর ২ নভেম্বর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসাবে সন্ত্রাসবিরোধী প্যাকেজটির বিষয়ে সরকার ও  অন্যান্য পক্ষ একমত হয়েছে। উল্লেখ্য যে,ভিয়েনার সেই সন্ত্রাসী আক্রমণে চার জন নিরীহ মানুষ নিহত হন এবং বিশেষ কমান্ডো পুলিশের গুলিতে সন্ত্রাসী নিহত হয়। পরে সন্ত্রাসীর সহযোগিতার অপরাধে প্রায় ১০ জনকে গ্রেফতার করে অস্ট্রিয়ার পুলিশ।

সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন যে, সম্ভবত গ্রেফতারকৃতদের পায়ের গোড়ালিতে ইলেকট্রিক ম্যাগনেট বেল্ট দিয়ে অচিরেই ছেড়ে দেয়া হবে। ফলে তাদের গতিবিধি সব সময়ই পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

নতুন এই সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পূর্বের আইনের মূল্যায়নের তুলনায় বড় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সরকার সন্ত্রাস বিরোধী প্যাকেজ উপস্থাপনের সাথে সাথে ধর্মীয়ভাবে অনুপ্রাণিত চরমপন্থার জন্য পৃথক ফৌজদারি অপরাধ আইন প্রণয়ন করেছেন এবং দোষী অপরাধীদের পর্যবেক্ষণ করার সময় পায়ের গোড়ালিতে একটি লোহার বেড়ি পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এই বৈদ্যুতিন লোহার গোড়ালি অপরাধীদের পায়ে কমপক্ষে ১৮ মাস পড়ে থাকতে হবে। তাছাড়াও, বিচারককে নির্দিষ্ট কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করতে হবে যেখানে শর্তাধীন মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে থাকার অনুমতি নেই, উদাহরণস্বরূপ মসজিদ যেখানে তারা বসে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করতো। এই লোহার গোড়ালিটি বর্তমানে প্রচলিত যৌন অপরাধীদের নিয়মাবলির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলে শুক্রবার বিকেলে পরিকল্পনাগুলি উপস্থাপনের সময় অস্ট্রিয়ার বিচারমন্ত্রী আলমা জাদিক (গ্রিনস) একথা জানান।

তিনি কেস কনফারেন্সগুলি প্রসারণে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, শর্তসাপেক্ষে মুক্তির সিদ্ধান্তে আদালতকে সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং চরমপন্থা প্রতিরোধ সমন্বয় অফিসকে জড়িত করতে হবে। নতুন এই ফৌজদারি আইনটি কেবল অপরাধীদের জন্য। বিচার মন্ত্রী জাদিক জোর দিয়ে বলেন,এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে যে, এই আইনটি নির্দিষ্ট কোন ধর্মের বিরুদ্ধে নয়।

সন্ত্রাস বিরোধী এই আইনের প্যাকেজটি কোন মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয় সংহত মন্ত্রী সুসান রাব (ÖVP)। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন,আমাদের আইনসভা প্যাকেজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং এটি ধর্মীয় অনুপ্রাণিত চরমপন্থার বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের আইন। এই আইনের প্যাকেজটিতে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সাহেবদের জীবনবৃত্তান্ত এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বৈদেশিক অর্থায়নও পরিশোধিত হচ্ছে। মসজিদগুলির পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সমিতি এবং অন্যান্য ভিত্তিগুলি প্রকাশ করতে বাধ্য মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার (ÖVP) প্রতীক আইনের আরও কঠোরকরণের কথা জানিয়েছেন।তিনি জানান,অস্ট্রিয়ায় বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলের তৎপরতায় কড়া নজরদারি এবং সনাক্ত কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

অস্ট্রিয়ায় এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহ্,”দ্য অস্ট্রিয়ান”, হিযবুত তাহরির, ককেশাসের আমিরাত এবং বিপ্লবী পিপলস লিবারেশন পার্টি / ফ্রন্টের পাশাপাশি এই গ্রুপগুলির অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলির প্রতীকগুলিও অস্ট্রিয়ায় তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার আরও জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই সমস্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম অনুসন্ধানের জন্য পুলিশ তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রাসঙ্গিক দোষীদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারকে সহজ করা হয়েছে।  তবে এটি কেবল দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে, বন্দুক আইন কঠোর করা কেবলমাত্র মূল্যায়নের পরে সম্ভব। সন্ত্রাসী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আজীবন অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাসোসিয়েশন আইন শিগগিরই সংশোধন করা হবে।  উদ্দেশ্য একটি সংশ্লেষের মূল অংশ এবং একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্রিয়াকলাপ  সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আরও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পুলিশ এবং সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত ১২৫ মিলিয়ন ইউরো সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী এই আইনটি সম্ভবত আগামী সপ্তাহে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী গ্রীষ্মের আগে এই আইন পাস এবং এর প্রয়োগ করা শুরু করা হবে।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১,৩৩৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৮ জন।

রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২৫৮ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে Steiermark রাজ্যে ২৪৪ জন,OÖ রাজ্যে ২১৫ জন,Tirol রাজ্যে ১৯৫ জন,NÖ রাজ্যে ১২৩ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১১৯ জন,Salzburg রাজ্যে ৮৫ জন, Kärnten রাজ্যে ৭৫ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১৯ জন নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে অস্ট্রিয়ায় আজ শুক্রবার করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে মোট ৯৫ হাজার ১৭১ ডোজ। আর এই পর্যন্ত সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে ৩২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৩ ডোজ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,২৮,৮১৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১০,৩৫১ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৫,৫৫ ৮৫৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৮,৬১২ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৪১৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৩৯৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »