চাঁদ অভিযানের “অ্যাপোলো ১১” এর নভোচারী মাইকেল কলিন্স ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন

মার্কিন নভোচারী মাইকেল কলিন্স দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ “অ্যাপোলো ১১” প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান, যা চাঁদে অবতরণ করে। এটি অ্যাপোলো প্রোগ্রামের ৫ম মহাকাশ অভিযাত্রা যাতে নভোচারীরা অংশ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬৯ খ্রীস্টাব্দের ১৬ জুলাই তারিখে এই অভিযানের সূচনা হয়। এই অভিযানে অংশ নেন দলপতি নীল আর্মস্ট্রং, কমান্ড মডিউল চালক মাইকেল কলিন্স, এবং চান্দ্র অবতরণযানের চালক এডউইন অলড্রিন। জুলাই ২০ তারিখে আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন প্রথম মানুষ হিসাবে চাঁদে পা রাখেন। অবশ্য মাইকেল কলিন্স চাঁদের মাটিতে পা রাখেন নি। তিনি মূল নভোযানটি নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণরত অবস্থায় ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সকল সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করা হয়েছে।

কলিন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় জানানো হয়েছে যে,তার শান্তিপূর্ণ মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশেই ছিলেন। তিনি জীবনের সব প্রতিকূলতা একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন, শেষ সময়েও তা অটুট ছিল।

কলিন্সের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা(NASA)। নাসার প্রশাসক স্টিভ জুরিক এক বিবৃতিতে বলেন, নাসা গভীর শোকের সঙ্গে একজন মহান পাইলট ও নভোচারীর বিদায়ে শোক প্রকাশ করছে। তিনি এমন এক বন্ধু ছিলেন যিনি সবসময় মানুষের অগ্রযাত্রায় উৎসাহ দিতেন। ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখেছিল নাসার অ্যাপোলো ১১। মাইকেল কলিন্স ছিলেন সেই চন্দ্রাভিযানের কমান্ড মডিউল পাইলট। অভিযানে নিল আর্মস্ট্রং এবং এডউইন অলড্রিনের চাঁদের বুকে পা রাখেন। তবে কলিন্স চাঁদে নামেননি। এ কারণে তাকে ‘বিস্মৃত নভোচারী’ বলা হয়। এই তিনজন নভোচারীর মধ্যে আর্মস্ট্রং মারা যান ২০১২ সালে। এখন শুধু বেঁচে আছেন এডউইন অলড্রিন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারী মাইকেল কলিন্স ১৯৩০ সালে ইতালির রোমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি।তাঁর পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। লেখাপড়া শেষ করে তিনি মার্কিন সেনা অফিসার হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একজন দক্ষ পাইলট হিসাবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৩ সালে নাসা তাকে পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

তবে মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাইকেল কলিন্স বিশ্বে সবচেয়ে বেশী পরিচিত লাভ করেন ১৯৬৯ সালে “অ্যাপোলো ১১” এর চাঁদের মিশনের জন্য। তাঁর অন্য দুই ক্রুমেটস ছিলেন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং এবং নভোচারী এডউইন অলড্রিন। তারাই পৃথিবীর প্রথম মানুষ যারা পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে অবতরণ করেছিলেন।

কলিন্স তাঁর চাঁদ মিশনের অভিজ্ঞতা একবার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,চাঁদের অভিযানের অভিজ্ঞতাটি চিরতরে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল এবং চাঁদের আকাশ থেকে আমাদের গ্রহের দিকে তাকিয়ে নিজেদের এই মহাকাশে অতি ক্ষুদ্র ও অসহায় বলেই মনে হয়েছে।

চাঁদের অভিযানের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “যখন আমরা গড়াগড়ি করে (চাঁদের) দিকে তাকিয়েছিলাম, ওহ, এটি ছিল এক বিস্ময়কর ক্ষেত্র।” তবে “এটি যতটা দুর্দান্ত, ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল। সেদিনকার সেই অনুভূতি কারও কাছে ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

মাইকেল কলিন্স চাঁদের মিশনের পর আর মহাকাশে যান নি। তবে পরবর্তীতে তিনি একজন সফল কূটনৈতিক হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জনসম্পদ বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি অফ স্টেটের পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি ওয়াশিংটনের জাতীয় বিমান ও মহাকাশ যাদুঘরের প্রথম পরিচালক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মাইকেল কলিন্স বিবাহিত ছিলেন এবং ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। অবশ্য সন্তানরা কে কি করেন এবং কতজন নাতি নাতনী সে সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় নি।

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »