প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রমজান ও বৈশাখের শুভেচ্ছা

আজ পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে কঠোর লকডাউন

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশে  প্রথম রোজা শুরু উপলক্ষে সকলকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আজ আবার বাংলা শুভ নববর্ষ ১৪২৮ সাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষেও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে যে যেখানেই আছেন, সবাইকে ১৪২৮ বঙ্গাব্দের শুভ নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আবাহনের দিন। “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী এই গান গেয়ে আজ আমরা আবাহন করব নতুন বছরকে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে মুসলমানদের পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। আমি সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানাচ্ছি।’

করোনার জন্য দেশের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ এই বৎসর ঘরোয়া পরিবেশে উদযাপনের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের মতো এ বছরও আমরা বাইরে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারছি না। সারা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের করোনাভাইরাস আরও মরণঘাতি হয়ে আভির্ভূত হয়েছে। পয়লা বৈশাখের আনন্দ তাই গত বছরের মতো এবারও ঘরে বসেই উপভোগ করবো আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেলসহ নানা ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। সেসব অনুষ্ঠান উপভোগ ছাড়াও আমরা নিজেরাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে আনন্দ উপভোগ করতে পারি।’

এদিকে আজ থেকে কঠোর লকডাউনটি সফল করতে দেশের সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

তিনি জানান,এই কঠোর লকডাউনে কারও যদি বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতেই হয়,তাহলে কেবলমাত্র মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হতে হবে। আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা চাপপ্রয়োগের চেয়ে নিজেদের উদ্যোগেই এই দায়িত্ব পালন করবো। বিনা প্রয়োজনে কাউকে দেখতে চাই না। যাদের একান্তই বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য মুভমেন্ট পাসের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

মঙ্গলবার ১৩ ই এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে‘মুভমেন্ট পাস’ অ্যাপস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক আরও বলেন, ‘আমরা বুধবার ১৪ ই এপ্রিল থেকে কাউকে সড়ক-রাস্তাঘাট এবং বাইরে দেখতে চাই না। বিনা প্রয়োজনে কাউকে বাইরে দেখতে চাই না। আমরা চাপপ্রয়োগের চেয়ে নিজেদের উদ্যোগেই এই দায়িত্ব পালন করবো। এসব না মানলে সমগ্র বাংলাদেশকে আইসোলেশনে নিতে হবে।’

যাদের একান্তই বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য মুভমেন্ট পাসের ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জরুরী প্রয়োজনে সীমিত সময়ের বের হওয়া লাগতে পারে। তারা মুভমেন্ট পাস নেবেন। রাস্তাঘাটে কোনও আড্ডা দেবেন না। বিভিন্ন সড়কে, মোড়ে আড্ডা দেবেন না। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তরুণরা কেউ বের হবেন না। বের হতে হলে অবশ্যই দ্রুত ঘরে ফিরতে হবে।’ তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ সরকারি জরুরী সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কোনো মুভমেন্ট পাস নিতে হবে না বলে জানিয়েছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

তিনি তার বক্তব্যে আরও জানান,‘গত বৎসর যেভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণ করেছি, এবারও করোনার দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করব। তবে অবশ্য অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা বন্ধ করতে হবে। গত বৎসর লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন,এবারও গত দুদিন ধরে ঢাকা ছাড়ছেন। তবে এগুলো ঠিক না, নৈতিকভাবে খুবই অন্যায় কাজ।’তিনি সকলকে করোনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করার অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন,এই সময় ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে যারা যেখানে পৌঁছেছেন তারা সেখানেই থাকবেন উল্লেখ করে বলেন,‘ আমি গ্রামবাসীকে বলব লক্ষ্য রাখবেন, যদি আক্রান্ত কেউ থাকেন তাহলে সে গ্রামের অন্যকেও আক্রান্ত করবে। তারা সাতদিন ঘরে থাকবেন। সরকার করোনার সংক্রমণের বিস্তার রোধে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করছে সকলকে নিজেদের স্বার্থেই তা যথাযথভাবে পালন করার অনুরোধ করেন আইজিপি।

বা ডে / ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »