বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ ১৪ই এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন,জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ

১৪ এপ্রিল থেকে সকল বিমান চলাচলও স্থগিত

বাংলাদেশ ডেস্কঃ দেশের করোনা পরিস্থিতির অব্যাহত অবনতির ফলে সরকার পুনরায় এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে শুধুমাত্র জরুরী পরিষেবা ছাড়া বাকী সব কিছুই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন এই লকডাউনে বন্ধ থাকবে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব রুটের বিমান চলাচলও। প্রাথমিকভাবে এই লকডাউনের সময়সীমা আগামী ১৪ ই এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কথা বলা হয়েছে।

রবিবার ১১ ই এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানের এক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে। এ সময় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সকল রুটের ফ্লাইট বন্ধ হতে পারে। একইসঙ্গে ১২ ও ১৩ এপ্রিল দেশের অভ্যন্তরীণ পথে কোনো বিমান চলবে না। তবে এই দুদিন বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পথে বিমান চলাচল করবে। এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী অনুমোদনের জন্য গণভবনে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কিংবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলেও বৈঠক সূত্র জানা গেছে।

এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১২ ও ১৩ এপ্রিলে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বিমান চলবে। তবে ১৪ এপ্রিল ভোর থেকে সর্বত্মক লকডাউনের জন্য আর কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। তাছাড়াও গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ পালন করা হচ্ছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ পথে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। তবে আন্তর্জাতিক পথে নির্দিষ্ট কিছু দেশ ছাড়া বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে জনসাধারণের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে এই লকডাউনে দেশে করোনা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়ায় সরকার পুনরায় ১৪ ই এপ্রিল থেকে ২০ শে

এপ্রিল পর্যন্ত সমগ্র দেশে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন যে আগামী ১৪ই এপ্রিল থেকে পুরোদেশে সাত দিনের ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হবে।

তিনি বলেন, এই সময়ে জরুরী সেবা ছাড়া সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিতসহ সব ধরণের অফিস এবং একই সাথে কল কারখানাও বন্ধ থাকবে। কঠোর লকডাউনের সময় সমস্ত যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আরও জানিয়েছেন যে,পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এই কঠোর লকডাউন দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই। “যদিও নতুন লকডাউনকে কার্যকর করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের চিন্তা আপাতত সরকারের নেই, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে,”।

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করে জানান,লকডাউন যাতে কার্যকর করা যায়, সেজন্য হতদরিদ্র মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন ও উপজেলায় সাড়ে পাঁচশো’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ।

বা ডে/ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »