আগামী ৫ই এপ্রিল সোমবার থেকে বাংলাদেশে এক সপ্তাহের লকডাউন

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন যে,দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগামী সোমবার ৫ই এপ্রিল থেকে  সারাদেশে এক সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার।

আজ শনিবার ৩ রা এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। তিনি বলেন, “করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আগামী সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

এ দিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন,  ‘দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনা সংক্রমণ রোধ করার স্বার্থে সরকার ২-৩ দিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। লকডাউন চলাকালে জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানা খোলা থাকবে।

বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির ফলে সরকারকে এই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে জরুরী ভিত্তিতে আবারও লকডাউন ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরকারকে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে ১২ টি পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শগুলি নিম্নে বর্ণনা করা হল :

১. সম্ভব হলে সম্পূর্ণ লকডাউনে যেতে হবে। না হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় রেখে যেকোনো জনসমাগম বন্ধ করার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

২. কাঁচাবাজার, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, শপিংমল, মসজিদ, রাজনৈতিক সমাগম, ভোট অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, রমজান মাসের ইফতার মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে।

৩. যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সেগুলো বন্ধ রাখতে হবে। অন্যান্য কার্যক্রমও সীমিত করতে হবে।

৪. যেকোনো পাবলিক পরীক্ষা (বিসিএস, এসএসসি, এইচএসসি, মাদ্রাসা, দাখিলসহ) নেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

৫. কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

৬. যারা রোগীদের সংস্পর্শে আসবে,তাদর কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. বিদেশ থেকে বা প্রবাসী যারা আসবেন, তাদের ১৪ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এই ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

৮. আগামী ঈদের ছুটি কমিয়ে আনা যেতে পারে।

৯. স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আইন আরও জোরালোভাবে কার্যকর করতে হবে।

১০. পোর্ট অব এন্ট্রিতে জনবল আরও বাড়াতে হবে এবং নজরদারির কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

১১. সব ধরনের সভা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে করার উদ্যোগ নিতে হবে।

১২. পর্যটন এলাকায় চলাচল সীমিত করতে হবে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে,দেশের ইতিহাসে একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সর্বোচ্চ সনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ২ রা এপ্রিল একদিনের আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৬,৮৩০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০ জন।

দেশে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,২৪,৫৯৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৯,১৫৫ জন।

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »