অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের ৩ টি রাজ্যে আসছে আরও কিছু বিধিনিষেধ

ইউরোপ ডেস্কঃ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে পূর্বাঞ্চলের ৩ টি রাজ্যের গভর্নরদের এক দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন যে,মূলত ৩ রাজ্যের গভর্নরদের সাথে গতকালের এই বৈঠককটি ছিল একটি সূচনা বৈঠক মাত্র। আজ বুধবার রাতেও তারা বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে।

এপিএ আরও জানান, বুধবার রাতে ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং বুর্গেনল্যান্ডের গভর্নররা কঠোর পদক্ষেপে একমত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা একটি “বাস্তব” লকডাউন সহ একটি “ইস্টার বিশ্রাম”এর সম্পর্কে কথা ভাবছি বলে বৈঠকের শুরুর পূর্বে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ভিয়েনার মেয়র মিখাইল লুডভিগ। আজ বুধবার বৈঠকের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের এই ৩ টি রাজ্যে করোনার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) অতিরিক্ত চাপের কারণে যাতে ভেঙ্গে না পড়ে তার জন্য দ্রুত করোনার সংক্রমণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে সকলেই একমত হয়েছেন।

ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া এবং বুর্গেনল্যান্ডের গভর্নররা গভীর রাত পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবারের (গ্রিনস) এর সাথে সম্ভাব্য বিধিনিষেধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এপিএ এর সংবাদ দাতা জানিয়েছেন, ভোর প্রায় আড়াইটার দিকে তারা করোনার বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার ব্যাপারে একমত হতে পেরেছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় পুনরায় বৈঠকের পর তারা সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন ।

বৈঠক শুরুর পূর্বে সকলের পক্ষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ভিয়েনা রাজ্য গভর্নর ও মেয়র মিখাইল লুডভিগ বলেন,আমরা এমন একটি পরিকল্পনা করতে চাই যাতে আমাদের হাসপাতাল ও আইসিইউর উপর চাপ দ্রুত হ্রাস পায়।

ভিয়েনার মেয়র লুডভিগ আরও বলেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ইস্টারের সময় সবকিছু বন্ধ রাখার প্রস্তাবের কথাও জানান। তিনি এই ব্যাপারে জার্মানির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। জার্মানি তাদের লকডাউন ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা সহ ১লা এপ্রিল থেকে ৫ ই এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারী, অর্থনৈতিক ও বেসরকারী জীবনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে সুপারমার্কেটগুলিও বন্ধ হয়ে যাবে এবং কেবল পবিত্র (ইস্টার) শনিবার একদিন খোলা থাকবে।

আজ বুধবার সকালে ভিয়েনার মেয়রের কার্যালয় অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে,দিনের বেলা বিভিন্ন পর্যায়ে আরও আলোচনা হবে। যে কারণে চুক্তিটি এখনই ঘোষণা করা হয়নি। এপিএর একজন মুখপাত্র ঘোষণা করেছেন যে তারা “নিরব নিরবতা” তে একমত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ান ফেডারাল সরকার পূর্বের এই তিনটি ফেডারেল রাজ্যের জন্য এই পারস্পরিক সংলাপের আয়োজন করেছেন। অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এই রাজ্য ৩ টি তে বৃটেনের মিউটেশন ভাইরাস ব্যাপক হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভর্নরদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করেছেন। ভিয়েনার মেয়র লুডভিগ(SPÖ),বুর্গেনল্যান্ডের গভর্নর হ্যান্স পিটার ডসকোজিল (SPÖ) এবং লোয়ার অস্ট্রিয়ার গভর্নর জোহানা মিকল-লাইটনার (ÖVP) এর সাথে গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবারের বৈঠকে পর অস্ট্রিয়ার পূর্বাঞ্চলের এই ৩ রাজ্যে খুব শীঘ্রই আসছে কিছু বিধি- নিষেধ।

সংবাদ সংস্থা এপিএ আরও জানান,যে ভিয়েনা প্রশাসন সম্ভবত ভিয়েনায় লোকজনের চলাফেরায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ ভিয়েনার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র Mariahilfer Strasse এ  মানুষদের আনাগোনা হ্রাস করতে পুলিশী নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, করোনার সংক্রমণের এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এই রাস্তায় সব সময়ই শত শত মানুষকে বসে থাকতে দেখা যায়। গতকাল রাজধানী ভিয়েনায় করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ১,০৯১ জন। তাছাড়াও অস্ট্রিয়ার সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা ভিয়েনা সহ বাকী উক্ত রাজ্য ২টিতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের একটি কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করেছেন।

অস্ট্রিয়ার করোনা কমিশন ও সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য, মহামারীবিদ ইভা শেরনহ্যামার অস্ট্রিয়ার রাস্ট্রীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সংবাদ বিষয়ক অনুষ্ঠান ZIB2 তে গতকাল রাতে এক লাইভ সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে,”সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা”নেয়া এখন অতি শীঘ্রই প্রয়োজন – “এমন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে যা ফলাফলের দিকে নিয়ে যায়”।

তিনি রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও রাজ্য গভর্নরদের উদ্দেশ্যে বলেন,”আমি একটি হার্ড লকডাউন পছন্দ করব যা সংক্ষিপ্ত হবে কিন্ত দ্রুত কার্যকর এবং এটি যেন সংক্রমণের বিস্তার দ্রুত হ্রাস করতে পারে।”

অস্ট্রিয়ার জটিল রোগ গবেষক পিটার ক্লিমেক, যিনি অফিসিয়াল করোনার পূর্বাভাস কনসোর্টিয়ামেরও সদস্য, তিনিও অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন।  “নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলির দৃষ্টিভঙ্গিতে” প্রেসে “(বুধবার সংস্করণ) তিনি বলেছেন,” আমরা অবশ্যই সময়ের বাইরে চলে যাচ্ছি”।  এক ধরণের “পূর্ব লকডাউন” দরকার হবে কিনা জানতে চাইলে ক্লিমেক বলেন, “আপনি যদি এটিকে আকর্ষণীয় উপায়ে রাখতে চান,  তবে হ্যাঁ।”

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »