উপকূলের মানতা সম্প্রদায় জেলে হলেও মেলেনা জেলে সহায়তা

জেলা প্রতিনিধি,পটুয়াখালীঃ জলে জন্ম,জলে মৃত্যু, সেই জলেই খুজে বেড়ান জীবন চলার   উপাদান। বলছি পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদী ও সাগর মোহনায় বসবাস করা মানতা সম্প্রদায়ের কথা। নৌকায় বসবাস করা এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন জীবীকা চলে মাছ শিকার করে। তবে এই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জেলে কার্ড। ফলে শতভাগ জেলে হয়েও সরকারী বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত তারা।

তাইতো তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে মানতা  সম্প্রদায়ের মানুষ গুলোকে এখন মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। দেশের ছয়টি অভয় আশ্রমে মাছে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে গত ১লা মার্চ থেকে দুই মাস সকল ধরনের মাছ শিকারে চলছে নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালীর তেলিতুয়া নদী। আর এই তেতুলিয়া নদীতেই  মাছ শিকার করে জীবন জীবীকা নির্বাহ করেন মানতা সম্প্রদায়ের কয়েকশ জেলে পরিবার।

তবে জেলে হলেও জাতীয় পরিচয় পত্র এবং জেলেকার্ড না থাকায় সরকারী সাহায্য সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত তারা। বাউফলের বগী বাজার সংলগ্ন খালে সারি সারি মানতা সম্প্রদায়ের মাছ ধরার নৌকা। এই নৌকাতেই এখন অলস সময় পার করছেন তারা। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করলেও কেউ তাদের খোঁজ নেয়না বলে জানান পঞ্চাস উর্দ্ধো মানতা ইদ্রিস হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘মেম্বার চেয়ারম্যান আমাগো খোঁজ খবর নেবে ক্যা। আমরা হেগো ভোটার না। আমাগো আইডেনটিটি কাড নাই(এনআইডি)। জাইল্যাগো লইগ্যা যে রিলিফ আয়(আসে) হ্যা  আমাগো(আমাদের) দেয় না। আমাগো জাইল্যা (জেলে) যে কাড ও নাই।’

এ বিষয়ে কথা হয়  পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ্’র সাথে। তিনি জানান, ‘শতভাগ জেলে পরিবার হলেও সরকারের বিভিন্ন নীতিমালার কারনে মানতা সম্প্রদায়ের পরিবার গুলোকে সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদেরকে সহায়তার জন্য সরকারের ভিন্ন পলিসি তৈরীর বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহনের জন্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরকে আমরা অবহিত করবো।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ গুলোকে কিভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা যায় এবং তাদেরকে জেলে হিসেবেও জেলে কার্ড দেয়া যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য আমরা জেলা নির্বাচন অফিস এবং জেলা মৎস্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছি। তবে এর বাইরেও মানতা সম্প্রদায়ের মানুষকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্য সহযোগীতা প্রদান করা হচ্ছে’ ।

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী, গলচিপা, দশমিনা এবং বাউফল উপজেলায় কি পরিমান মানতা পরিবার বসবাস করছে এর সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে আদুনিক এই সমাজ ব্যবস্থায়ও তারা চিকিৎসা শিক্ষার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

আব্দুস সালাম আরিফ/ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »