অস্ট্রিয়ায় এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে করোনার দৈনিক সংক্রমণ পুনরায় ৬,০০০ হাজারের আশঙ্কা

শীর্ষ সম্মেলনের পরে বিরোধীদল FPÖ প্রধান, “সম্ভবত এপ্রিলে লকডাউন”

ইউরোপ নিউজঃ আজ অস্ট্রিয়ার সরকারের নীতিনির্ধারকরা দেশের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ,জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ এবং ৯ টি রাজ্যের গভর্নরের সাথে বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি। চলমান সপ্তাহের সংক্রমণের বিস্তারের উপর ভিত্তি করে আগামী সোমবার পুনরায় বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

বৈঠক শেষে অস্ট্রিয়ার বিরোধীদল FPÖ এর চেয়ারম্যান নরবার্ট হোফার সাংবাদিকদের বলেন, সরকার এখন থেকেই চতুর্থ লকডাউনের ছকঁ আকঁছেন। তিনি বলেন, সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,বর্তমানে যে ধারায় সংক্রমণের বিস্তার লাভ করেছে তা যদি অব্যাহত হতে  থাকে,তাহলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক সংক্রমণ পুনরায় ৬,০০০ হাজার ছাড়িঁয়ে যাবে। নরবার্ট হোফার সরকারকে সতর্ক করে বলেন,দেশে চতুর্থ লকডাউন ঘোষণা করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন,লকডাউন ব্যতীত সুস্পষ্ট নিয়মের অধীনে জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে ।

এফপিও প্রধান আরও বলেন, “স্কুল দ্রুত খুলে দেয়ার কারনে বর্তমানে এই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বলা হচ্ছে কিন্ত এখনও স্কুলের ক্লাসরুমগুলিকে বায়ু বিশুদ্ধকরণ ডিভাইস দিয়ে সজ্জিত করার কোনও চিন্তা নেই। এটি হতাশাব্যঞ্জক “।

অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল SPÖ এর প্রধান পামেলা রেন্ডি-ভাগনার বলেন,করোনার পরবর্তী প্রাদুর্ভাব ধীর গতিতে পুনরায় আমাদের দিকে আসছে। ফেব্রুয়ারীর প্রথম থেকেই তাড়াহুড়ো করে সবকিছু খুলে দেয়ায় বর্তমানে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী SPÖ (সোস্যাললিস্ট পার্টি অস্ট্রিয়া) নেত্রী পামেলা রেন্ডি-ভাগনার আরও বলেন,“আমি সবসময় এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছিলাম। বর্তমানে প্রতিদিনের গড় সংক্রমণ ৩,০০০ হাজারের ঘরে এবং সংক্রমণের বিস্তার ক্রমশই বাড়ছে। তাই এখন বিধিনিষেধ শিথিলতার কোন সুযোগ নাই। “তিনি সংক্রমণের তৃতীয় তরঙ্গকে অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছিলেন। এটি “নিঃশব্দে আসবে এবং দ্রুত আসছে,তাই করোনার বিধিনিষেধের শিথিলতা পরবর্তী প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন পামেলা।

অস্ট্রিয়ার আরেক বিরোধীদল NEOS এর ক্লাবের উপ-পরিচালক নিকোলাস শেরাক সরকারের সাথে বৈঠকের পর সংবাদ সংস্থা এপিএ কে জানান যে,তিনি বৈঠকে দুইটি সম্ভাবনাময় প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যেমন এক,করোনার পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য আঞ্চলিক পদক্ষেপগুলি সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ এবং আসন্ন ইস্টার ছুটিতে দেশে পুনরায় করোনার গণ পরীক্ষার আয়োজন করা। তিনি আরও বলেন, তার প্রস্তাব দুইটি ইতিবাচক বলে সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা সমর্থন  করেছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবার দুইদিন অসুস্থ থাকার পর আজ পুনরায় মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছেন। তিনি আজ সকালে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনের সকালের এক জার্নালে বলেন,আমাদের দেশে করোনার তৃতীয় তরঙ্গ শুরু হয়েছে। তাই তিনি সকলকে করোনার  বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন,গত “শরতৎকালের  মতো পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।”

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ১,৮৯৬ জন(গতকাল রবিবার ছুটির দিনের পরীক্ষার ফলাফল) এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯ জন। আজ রাজধানী ভিয়েনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ৪৮৪ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৩৪৭ জন,OÖ রাজ্যে ২৮৩ জন,Steiermark রাজ্যে ২৪৫ জন,Salzburg রাজ্যে ১৬৫ জন,Tirol রাজ্যে ১৪৯ জন,Burgenland রাজ্যে ৯৭ জন,Kärnten রাজ্যে ৯৪ জন এবং Vorarlberg রাজ্যে ৩২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ ৯৫,৪৬৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮,৮৯২ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪,৫৯,২৮৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৭,২৮৪ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৬৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৭৫৯ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »