ইতালিতে আগামীকাল সোমবার থেকে পুনরায় করোনার তৃতীয় লকডাউন

ইউরোপ ডেস্কঃ ইতালিতে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় তরঙ্গের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের ফলে আগামীকাল সোমবার ১৫ ই মার্চ থেকে ৬ই এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বেশীরভাগ অঞ্চলে কঠোর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ইতালির বেশীরভাগ অঞ্চলে আগামীকাল থেকে পুনরায় স্কুল, রেস্তোঁরা, দোকান এবং জাদুঘরগুলি বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।

ইতালির বাংলা সংবাদ মাধ্যম ইতালি বার্তা জানান,নতুন এই লকডাউন ঘোষণার ফলে ইতালির শতকরা ৭৫% শতাংশ মানুষ পুনরায় গৃহবন্দী হয়ে পড়বেন। আগামীকাল থেকে শুরু এই তৃতীয় দফার কঠোর লকডাউনে দেশটির ১১টি বিভাগীয় অঞ্চলকে রেড জোনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই লকডাউন বা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আগামীকাল ১৫ ই মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির মন্ত্রিসভার এক জরুরী বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটি আরও জানিয়েছেন,এই কঠোর লকডাউনের ফলে রাজধানী রোম সহ দেশের প্রধান প্রধান শহরের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ পুনরায় ঘরবন্দি হয়ে পড়বে। গত বছরের মত এই বছরও খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে ঘরেই উদযাপন করতে হবে। ইতালিতে করোনা শুরুর পর রাজধানী রোমসহ সমগ্র Lazio অঞ্চলকে প্রথমবারের মতো করোনার রেড জোনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে উত্তর ইতালির লোম্বার্দিয়া, পিয়েমন্তে, ভেনেতো, মার্কে, কাম্পানিয়া, এমিলিয়া-রোমানিয়া, পুলিয়া, ফ্রিউল্লি ভেনেচ্ছিয়া জুলিয়া এবং স্বায়ত্বশাসিত ত্রেনতিনো অঞ্চলকে রেড জোনে রাখা হয়েছে।

রেড জোনে থাকা সকল প্রকার বার, রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুল, মিউজিয়াম, জিমনেসিয়াম, স্টেডিয়াম, সেলুন ও পার্লার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। জরুরী কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। এক বাসা থেকে অন্য বাসায় যাতায়াত করা যাবে না। রাতে কারফিউ বা প্রস্তান নিষেধাজ্ঞা রাত ১০টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আগামীকাল থেকে লাল জোনের নাগরিকরা উপযুক্ত প্রমাণাদি সাপেক্ষে কেবল নিজ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হতে পারবেন। জরুরী ওষুধের জন্য ফার্মেসীতে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পারবেন। জরুরী কেনাকাটার জন্যও ঘর থেকে বের হওয়া যাবে তবে অবশ্যই সেল্ফ ডিক্লারেশন সার্টিফিকেট নিয়ে বের হতে হবে। তবে পোশাকের দোকান, জুয়েলারি এবং জুতার দোকান খোলা রাখা যাবে।

কমলা জোনের নাগরিকরা নিজ শহরে যাতায়াত করতে পারবে প্রতিদিন একবার এবং রাত ১০টার মধ্যে অবশ্যই বাসায় ফিরতে হবে। তবে জরুরী প্রয়োজনে সেল্ফ সার্টিফিকেট নিয়ে অন্য শহরেও ভ্রমণ করতে পারবে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি রোমের ফিলিয়ামিকিনো বিমানবন্দর থেকে জানান,  বিমানবন্দর এলাকায় একটি নতুন ভ্যাকসিন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি বলেন,অত্যন্ত দুর্ভাগ্যবশত এক বছরেরও বেশী সময় পড়ে এসে আমরা পুনরায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে এসে পড়েছি। তিনি বলেন,সংক্রমণের বিস্তার কমাতে আমাদের আবারও কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করতে হয়েছে। তিনি করোনার বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সকলকে যথাযথ বিধিনিষেধ মেনে চলার আহবান জানান।

তিনি আরও জানান,”গত বসন্তে যা ঘটেছিল তার স্মৃতি প্রাণবন্ত এবং এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আবার না ঘটে,তার থেকে রক্ষার জন্য আমরা সব কিছু করব।” এখন, ইতালির বেশীরভাগ অঞ্চলই লাল এবং কমলা জোনের অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন,যে সমস্ত অঞ্চল বা জনপদে প্রতি ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বাসিন্দার মধ্যে ২৫০ জনের বেশী করোনায় সংক্রমিত,সেই অঞ্চলই ঝুঁকিপূর্ণ লাল অঞ্চল হিসাবে বিবেচিত হবে।

করোনার সংক্রমণের দিক থেকে বর্তমানে সবচয়ে কম সংক্রমণের অর্থাৎ সাদা অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ইতালির সার্ডিনিয়া অঞ্চল। এই অঞ্চলটি রাত ১০ টা কারফিউ সহ অন্যান্য জোনের মত সর্বাধিক নিষেধাজ্ঞার হাত থেকেও অব্যাহতিপ্রাপ্ত। তবে এখানেও যদি সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়,তাহলে অবশ্যই এখানেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন। সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী সার্ডিনিয়ার ক্ষেত্রে, আঞ্চলিক গভর্নর একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেছেন যে সন্ধ্যা কারফিউটি রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রেস্তোঁরা সন্ধ্যা ৬ টার পরিবর্তে রাত ১১ টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বারগুলি ৯টায় বন্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্তো স্পেরানজা জোর দিয়ে বলেছেন যে,সাদা অঞ্চলে যারা বাস করেন তাদের “সমস্ত সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা” অব্যাহত মেনে চলতে হবে। খোলা এবং বন্ধ উভয় জায়গাতেই মাস্ক বাধ্যতামূলক পড়তে হবে। তিনি আরও জানান, দেশের ইয়েলো জোনের সমস্ত অঞ্চল সোমবার থেকে কমলা অঞ্চলে চলে যাবে। ইতালিতে শনিবার ১৩ ই মার্চ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ২৬,০৬২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩১৭ জন।

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »