রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে চাঁদের কক্ষপথে বা পৃষ্ঠে স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ‘৭০ এর দশকের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকা দুই পরাশক্তির স্নায়ু যুদ্ধের পর কি বিশ্ব এখন “Star Wars” অর্থাৎ তারকা যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে !

বৃটিশ দৈনিক “দি সান” জানিয়েছেন,নতুন মহাকাশ বিজয় আধিপত্যের দৌড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাশিয়া ও চীন প্রথম চাঁদের ঘাঁটি নির্মাণের জন্য ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অন্য দিকে রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থা রোজকোসমোস জানিয়েছে,যে উভয় দেশই তাদের অভিন্ন ইচ্ছার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে।

স্টেশনটি “চাঁদের পৃষ্ঠে অথবা কক্ষপথে স্থাপন করা হবে সে সম্পর্কে পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য” একটি টিম গঠন করতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। অবশ্য তার বলেছে পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যান্য আগ্রহী দেশ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য এই প্রজেক্টে অংশগ্রহণের সুযোগ করা হবে জানিয়েছেন উভয় দেশের উদ্যোগক্তারা। আইএলআরএস (আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র) নামে চাঁদের গবেষণা এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের জন্য এটি একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে স্থাপিত হবে।

চীনা ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএনএসএ) এর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মহাকাশ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রকল্প করা হবে। এরপরে, রাশিয়া ও চীন চাঁদের গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করতে চায়।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে “স্পেস নিউজ” জানিয়েছেন যে, রাশিয়া আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে সহযোগিতা করার জন্য চীনের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থা রোজকোসমোস আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র তৈরীতে সহযোগিতা নিয়ে রাশিয়ান ফেডারেশন সরকার এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারককে সামঞ্জস্য করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে ।

রোজকোসমোস প্রেস অফিস স্পেসনিউজকে একটি ইমেইলে একথা জানিয়েছেন বলে বলা হয়েছে। ইমেইলে রোজকোসমোস বলেন,”উল্লিখিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখটি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি এবং বর্তমানে চীনা অংশীদারদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।” এই পদক্ষেপের সাথে সম্পর্কিত রাশিয়ান ফেডারেশনের সরকারের একটি আদেশ অনলাইনে গত ১১ই ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত হয়েছিল।

রোজকোসমো প্রেস অফিস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি আসন্ন একটি আন্তর্জাতিক ঘটনার সাথে মিলে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেমন,রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে জুনে গ্লোবাল স্পেস এক্সপ্লোরেশন কনফারেন্স ২০২১ এর হোস্ট করার কথা রয়েছে। আইএলআরএস চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি রোবোটিক বেসের জন্য চীনা গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। চীনের প্রথম পদক্ষেপগুলি আসন্ন মিশন চাঁদসচ্যাঙ্গ-, ৬, ৭ এবং 8 মিশন ও রাশিয়ার চাঁদের অভিযান “লুনা ২৭” এর মতো আন্তর্জাতিক মিশনগুলি হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। সেখানে উভয় দেশ ২০৩৬ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের অবতরণ ও বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরী করা নিয়ে গবেষণা করছে।

প্রথমত চাঁদের মাটিতে কিভাবে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা যায়। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং সৌর জগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে চাঁদের কেন্দ্রের গড় দূরত্ব হচ্ছে ৩,৮৪,৩৯৯ কিলোমিটার (প্রায় ২৩৮,৮৫৫ মাইল) যা পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় ৩০ গুণ। চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৪.২০৬ কিলোমিটার (২,১৫৯ মাইল) যা পৃথিবীর ব্যাসের এক-চতুর্থাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। এর অর্থ দাড়াচ্ছে, চাঁদের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের ১ ভাগ। এর পৃষ্ঠে অভিকর্ষ বল পৃথিবী পৃষ্ঠে অভিকর্ষ বলের এক- ষষ্ঠাংশ। পৃথিবী পৃষ্ঠে কারও ওজন যদি ১২০ পাউন্ড হয় তা হলে চাঁদের পৃষ্ঠে তার ওজন হবে মাত্র ২০ পাউন্ড। এটি প্রতি ২৭.৩২১ দিনে পৃথিবীর চারদিকে একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে। প্রতি ২৯.৫ দিন পরপর চন্দ্র কলা ফিরে আসে অর্থাৎ একই কার্যক্রম আবার ঘটে।

পৃথিবী-চাঁদ-সূর্য তন্ত্রের জ্যামিতিতে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের কারণেই চন্দ্র কলার এই পর্যানুক্রমিক আবর্তন ঘটে থাকে। চাঁদের সাথে পৃথিবীর একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চাঁদের কারনে পৃথিবীর সাগরে জোয়ার-ভাটা হয়।

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »