ভিয়েনায় শনিবারের করোনার বিধিনিষেধ বিরোধী বিক্ষোভের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও এফপিওর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

ইউরোপ ডেস্কঃ শনিবার ভিয়েনায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রক্ষণশীল বিরোধীদল FPÖ (ফ্রিডম পার্টি অস্ট্রিয়া) এর সমর্থনের ছত্রছায়ায় ভিয়েনায় করোনা বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়।

ভিয়েনার পুলিশ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে এই অবৈধ বিক্ষোভ থেকে ৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়াও প্রায় ৩,০০০ হাজারের বেশী মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার ৬০ টি ফৌজদারি মামলাও রয়েছে। পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের হালকা সংঘর্ষে ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই বিরোধী এফপিও দলের সমর্থক।

অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানায়, আনুমানিক প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার বিক্ষোভকারী শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিটি সেন্টার অভিমুখে মার্চ করেছিল। অবশ্য তারা একত্রিত হওয়ার পূর্বেই পুলিশী বাধার সম্মুখীন হন। উল্লেখ্য যে,গতকাল শনিবার বিকালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বিক্ষোভকারীরা অস্ট্রিয়ায় এখনও যে লকডাউন জারি রয়েছে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় বিক্ষোভ করে। তারা হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলার দাবি জানায়,তাছাড়াও তারা সরকার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের পদত্যাগ দাবি করে।

এই এফপিও এক সময় বর্তমান সরকার প্রধানের সাথেই কোয়ালিশন সরকারে ছিল। অবশ্য সরকার অস্ট্রিয়ায় গত মাসে লকডাউন শিথিল করে এবং স্কুল, দোকানপাট ও জাদুঘর খুলে দেয়। অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার (ÖVP) এফপিওকে ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তার দলের সমর্থকদের দ্বারা সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন,ভিয়েনার ২ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের Prater এ এফপিও এর সমাবেশ শেষ হওয়ার পর দলের সমর্থকরা আরও উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই সমাবেশে বিরোধী রাজনৈতিক দল এফপিএ (FPÖ) এর ক্লাবের পরিচালক হারবার্ট কিকল করোনায় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষণ দিয়ে সহিংসতায় আরও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ করেন। সমাবেশ শেষে কয়েক শতাধিক লোকের বিক্ষোভ মিছিল লিওপল্ডাওস্টাড জেলার ভিতর দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছানোর পথে পুলিশ তাদের আনটিয়ার অগার্টেনস্ট্রাসে ডানুব খালের কাছে আটকিয়ে দেয়। পরে সেখানে অনেককেই করোনার বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন,  বিক্ষোভকারীদের কয়কটি দল একটি বিভিন্ন অফিস ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে পার্ক করা গাড়িরও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। তাদের আক্রমণে এক নিরাপত্তা কর্মী গুরুতর আহত হন। পুলিশের মধ্যে গতকালের সহিংসতায় মোট ৪ জন সদস্য বিক্ষোভকারীদের আক্রমণে আহত হয়েছেন।

এদিকে বিরোধী ডানপন্থী FPÖ দলের নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র হ্যানস আমেসবাউর অবশ্য বলেন, পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর ব্যাপক সহিংসতা চালায়। তিনি এর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামাকে দোষারোপ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,পুলিশ একটি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শেষে যখন সবাই বাড়ি ফিরছিলেন তখন সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপে হিসাবে তাদের উপর চড়াও হন এবং এমনকি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারিদের মরিচের (গোল মরিচ) স্প্রে দিয়ে আক্রমণ করেছে।

এপিএ আরও জানান,এফপিও নেতা কিকলসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে করোনার বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে,যাদের মধ্যে কয়েকজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ২,১৯৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ৫৯৯ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৫৬০ জন,OÖ রাজ্যে ৩৩৮ জন, Steiermark রাজ্যে ২৬২ জন,Salzburg রাজ্যে ১৪৫ জন,Kärnten রাজ্যে ১০১ জন,Burgenland রাজ্যে ৯১ জন,Tirol রাজ্যে ৮১ জন এবং Voralberg রাজ্যে ২২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৭৫,০৭০ জন এবং এই পর্যন্ত মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৮,৭১৩ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪,৪৩,১৫২ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৩,২০৫ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩১৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৪৫১ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »