এক্সোপ্ল্যানেট আসলে কি

বিশাল মহাকাশে এক্সোপ্ল্যানেট WASP-12b একটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এক্সোপ্ল্যানেট  

নিউজ ডেস্ক: ক্সোপ্ল্যানেট হ’ল আমাদের  পৃথিবীর মতোই গ্রহ যারা সৌরজগতের বা সোলার সিস্টেমের বাহিরে অন্য কোন সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। আমাদের পৃথিবীও একটি প্ল্যানেট বা গ্রহ। আর এই গ্রহ সহ আমাদের সৌরজগতের আরও ৮টি (মতান্তরে আরও ১০ টি) গ্রহ একটি নক্ষত্রকে (সূর্য) কেন্দ্র করে ঘুরছে। আর সেই নক্ষত্র হল সূর্য।

এখানে উল্লেখ্য যে, আধুনিক জ্যোতি র্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন আমাদের সৌরজগতের নেপচুন গ্রহের পিছনে আরেকটি গুপ্ত গ্রহও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। এ নিয়ে এখনও বেশ গবেষণা চলছে। এই মহাবিশ্বে সূর্যের চেয়েও শক্তিশালী বা দূর্বল অসংখ্যা নক্ষত্র রয়েছে। আর তাদেরকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আরো অনেক গ্রহ। সেইসকল গ্রহ বা প্ল্যানেটই হল এক্সোপ্ল্যানেট। মূলকথা আমাদের সৌরজগতের বাইরের সকল প্ল্যানেটই এক্সোপ্ল্যানেট।

আমাদের সৌরজগতের বাহিরে এমনই একটি এক্সোপ্ল্যানেট হ’ল WASP-12b। পৃথিবী থেকে ৮৭১ আলোকবর্ষ দূরে অরিগা(Auriga) নামক ছায়াপথে (গ্যালাক্সি) অনেকটা সূর্যের মত একটি নক্ষত্র রয়েছে, যার নাম WASP-12। এই নক্ষত্র আরও ১০ মিলিয়ন বছরের মত বেঁচে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই নক্ষত্রের নিকটতম গ্রহ WASP-12b।

এখন কথা হচ্ছে,এই গ্রহটির বিশেষ গবেষণা বা আলোচনা কেন? মহাকাশে কোন কিছু যা অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আলো শোষণ করে, এরকম কিছু শুনলেই আমাদের মাথায় আসে ব্ল্যাকহোলের কথা কিন্তু ব্ল্যাকহোল হল মৃত নক্ষত্র। এরকম কিছু গ্রহ আছে যার আচরণ ব্ল্যাকহোলের মত। যেমন:আজকের এই এক্সোপ্ল্যানেট WASP-12b। এই এক্সোপ্ল্যানেটটি সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রহগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।

পৃথিবীর উপরে মহাকাশে স্থাপিত নাসার হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে ২০০৮ সালের এপ্রিলে এটি আবিষ্কার করা হয়। এই গ্রহ সম্পর্কে বলা হয়, এটি পাতালের মত গরম ও রাতের মত অন্ধকার। এই গ্রহের বর্ণকে পিচ ব্ল্যাক বলা হয়। এই এক্সোপ্ল্যানেটটি তার সৌরজগতের মূল নক্ষত্রের অনেক কাছে অবস্থিত। তাই এতে অতিরিক্ত তাপমাত্রার পাশাপাশি অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা থাকার কথা। কিন্তু তারপরেও এটি অন্ধকারাচ্ছন্ন,এই গ্রহটি তার ৯৪ শতাংশ আলো শোষণ করে। অর্থ্যাৎ মাত্র ৬ শতাংশ আলো বিকিরিত হয়, যা অনেক অনেক কম। এরকম হয় গ্রহটির নারকীয় আবহাওয়ার কারণে।

দিনের বেলায় গ্রহটির তাপমাত্রা ৪,৬০০ ডিগ্রী ফা. (২,৫০০ডিগ্রী সে.)। এই প্ল্যানেটের তাপমাত্রা এতই বেশী যে,এখানকার পদার্থ কণা সবসময় আয়নিত অবস্থায় থাকে। এরা কখনই কঠিন অবস্থায় আসতে পারে না। এখানকার মুক্ত হাইড্রোজেন গুলো আলো শোষণ করে তাকে তাপে রূপান্তরিত করে। আর একারণেই মূলত আলোর বিকিরণ ঘটে না। এখানে মেঘ ও ক্ষার ধাতুর আধিক্য বেশী। ফলে এটিও আলো শোষণের একটি অন্যতম কারণ। প্ল্যানেটটির এধরণের বৈশিষ্ট্যের কারণেই, একে নির্দিষ্ট গোত্রভুক্ত করার আগেই একে নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছিল। এখন কথা হচ্ছে এই এক্সোপ্ল্যানেটটির অন্ধকারের মাত্রা আমরা বুঝলাম কিভাবে? কোন গ্রহের অন্ধকার-উজ্জ্বলতার মাত্রা পরিমাপক একটি রাশি বিদ্যমান। এর নাম অ্যালবেডো(Albedo)। এর মাত্রা ০ থেকে শুরু হয়। আসলে এই albedo হচ্ছে কল্পকাহিনী অনুসারে এমন এক বালক যার গায়ের রং ছিল কালো এবং সে আলো শোষণ করতে পারত। সেখান থেকে নেয়া হয়েছে এই নাম WASP-12b এর albedo মান ০.১২।

এখন প্রশ্ন হল এতো অন্ধকার গ্রহকে গবেষকরা খুঁজে পেল কিভাবে? বিষয়টা আসলে এতোটা জটিল নয় যতটা আমরা ভাবছি। এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধানী বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে ট্রান্সিট মেথড নামক এক বিশেষ পদ্ধতির ব্যবহার করে থাকেন। মহাকর্ষীয় বলের কারণে সব প্ল্যানেটই নিজ কক্ষপথ আবর্তনের সময় অন্য প্ল্যানেটের দিকে কিছুটা বেঁকে যায়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করা হয়। আর এটিই ট্রান্সিট মেথড। এভাবেই WASP-12b এর আবিষ্কার।

গবেষকরা যখন এই প্ল্যানেট বরাবর আলো নিক্ষেপ করার পরেও কোন রিফ্লেক্ট পাননি, তখন বোঝা যায় যে এটি আলো শোষণ করে এবং অসম্ভব অন্ধকার একটি প্ল্যানেট। এই প্ল্যানেটটি তার সৌরজগতের খুব কাছে হওয়ায় গ্রহটির বিলুপ্তির একটি আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি হয়তোবা তার নক্ষত্রের মাঝে পতিত হবে। বুধ হতে সূর্যের মধ্যবর্তী দুরত্বের ৪৪ ভাগের ১ ভাগ হল WASP-12b হতে তার নক্ষত্রের দুরত্ব। বৈশিষ্ট্যের কারণে একে জুপিটারের মত গ্যাস জায়ান্টও বলা হয়। উত্তপ্ত জুপিটারও বলা হয়। তবে এরকম উত্তপ্ত জুপিটার আরো অনেক রয়েছে। গবেষক Taylor Bell(McGill University)বলেছেন,”সাধারণত উত্তপ্ত জুপিটারেরা ৪০ শতাংশ আলো রিফ্লেক্ট করে। কিন্তু WASP-12b তার ধারের কাছেও নেই।” রহস্যের অপর নাম মহাকাশ বিজ্ঞান।

আমাদের সবার কাছে অন্যতম কৌতূহলজনক বিষয় এই বিশাল মহাকাশ। মহাকাশের একটি রহস্যের পর্দা ফাঁস করতে গেলে জরিয়ে যেতে হয় আরও ১০০ টি রহস্যের মায়াজালে। এই বিশাল মহাকাশ যেহেতু প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে,তাই আমাদের পৃথিবীর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে এর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের রহস্য কোনদিনই আর জানা সম্ভব হবে না।

সৌজন্যেঃ বিজ্ঞান বিষয়ক সায়েন্স নিউজ ম্যাগাজিন।

 কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »