সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক

মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে ড.  মোঃ ফজলুর রহমানের ধারাবাহিক মতামত। এটি লেখকের নিজস্ব মতামত। এর সাথে ইউরোবাংলা টাইমসের সম্পাদকীয় নীতিমালার সম্পর্ক নেই

পর্ব-৭

ড.মোঃ ফজলুর রহমানঃ (৬৮)অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিগত ২০০৪ সনের পুনর্মুদ্রিত সংকলনে তারা লাজ শরমের মাথা খেয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ২৭শে মার্চ নহে, ২৬শে মার্চ রাতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি (জিয়া) স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ফেরেববাজ এবং মিথ্যাবাদী পণ্ডিতগণ জানেন না যে, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ আদৌ চালুই হয়নি। এই কেন্দ্র প্রথমবারের মতো চালু হয়েছিল ২৭শে মার্চ সকালে। তাই এই কেন্দ্র চালু হওয়ার পূর্বে তথা ২৬শে মার্চ জিয়াউর রহমান কর্তৃক এই বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার আদৌ কোন প্রশ্নই আসে না।

(৬৯)বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিমাত্রই জানেন যে, প্রতিটি টিভি চ্যানেলই উক্ত চ্যানেলের মালিক এবং সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেকই পরিচালিত হয়ে থাকে। কোন্‌ সংবাদটিকে কতটুকু গুরুত্ব দিতে হবে, না হবে এবং কোন্‌ অনুষ্ঠান কখন এবং কোন্‌ দিন প্রচারিত হবে, না হবে সে ব্যাপারে কোন সংবাদ পাঠক কিংবা পাঠিকা অথবা কোন অনুষ্ঠানের ঘোষক কিংবা ঘোষিকার আদৌ কোন কর্তৃত্ব কিংবা ক্ষমতা অথবা কোন এক্তিয়ারই নেই। এরই পাশাপাশি কোন একটি জনসভা কিংবা কোন ওয়াজ মাহফিল অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ জনসমাবেশে কি কি ধরনের বক্তব্য রাখা হবে, না হবে সে ব্যাপারে মাইকে ঘোষণাকারী ব্যক্তিরও কোন প্রকার ধারণাই থাকে না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেকই সংবাদ পাঠক কিংবা পাঠিকা এবং অনুষ্ঠানের ঘোষক অথবা ঘোষিকা অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকেন। এহেন অবস্থায় এতদসংক্রান্ত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কৃতিত্ব কাকে দেয়া হবে? ঘোষককে না কি সংশ্লিষ্ট টিভি কর্তৃপক্ষকে?

(৭০)শিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই জানেন, যে কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিংবা শিক্ষয়িত্রী তার কর্মস্থলে এসে সংশ্লিষ্ট স্কুলে তার জন্য নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করে থাকেন। উক্ত স্কুলের সকল শিক্ষকদের কার্যক্রম সহ প্রশাসনিক যাবতীয় কার্যক্রমও তারই নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। স্কুল সংক্রান্ত সমুদয় কাগজপত্রেও তিনিই স্বাক্ষর করেন। কিন্তু স্কুলের ঘণ্টা বাজায় উক্ত স্কুলের দপ্তরী। এহেন ঘণ্টা বাজার মাধ্যমে কখনো স্কুলের ক্লাস শুরু হয় আবার কখনো বা তা শেষও হয়। এছাড়া দপ্তরীর ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে উক্ত স্কুল ছুটিও হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কি বলা উচিত হবে যে, নির্দিষ্ট কক্ষে বসে থাকা হেডমাস্টার নহেন বরং দপ্তরীই উক্ত স্কুলের চালিকা শক্তি তথা স্কুলের কার্যক্রম চালু করা এবং স্কুল ছুটি দেয়া না দেয়ার মালিক? জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করার ব্যাপারটিও এরকমই নয় কি?

(৭১)পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে আজ যিনি যেখানেই অবস্থান করেন না কেন, সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তি মাত্রই স্বীকার করবেন যে, ১৯৭১ ইং সনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই ছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। বাংলাদেশ সম্পর্কে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে তখন শুধুমাত্র তাঁরই ছিল একচ্ছত্র ক্ষমতা। মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের পরে ঐ সময়ে তিনিই ছিলেন বাঙালির ভাগ্য বিধাতা। এতদসংক্রান্ত ব্যাপারে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের জনসভার কয়েকদিন পর পল্টনের এক জনসভায় বলেন- “মুজিব আর দেরি নয়, অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করো।” অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত এবং বাঞ্ছিত ঘোষণাটির ব্যাপারে তাঁকে তাঁরই এককালের শিষ্য মুজিবের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে।

(৭২)বয়োজ্যেষ্ঠ মজলুম জননেতার উপরোক্ত উদাত্ত আহবানের মাধ্যমে একথা সন্দেহাতীতভাবেই প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার ব্যাপারে তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অভাবে তিনি নিজ থেকে উক্ত ঘোষণাটি দিতে পারছিলেন না। কারণ তিনি জানতেন যে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার বৈধ এবং আইনানুগ এক্তিয়ার কেবলমাত্র মুজিবেরই ছিল। আর কারও নয়। [দ্রঃ শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া, মেজবাহউদ্দিন জওহের, জনকণ্ঠ, ১৪ই আগস্ট, ২০০৪ ইং]। তারও কয়েকদিন পরে মাওলানা ভাসানী আবারও বলেন- “১৯৭১ সনে দেশের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, মুজিব সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে গিয়েছিল। তখন তাঁর ডাক ছাড়া আর কারও ডাকে মানুষ সাড়া দিত না। যদি দিত তাহলে ২৬শে মার্চ রাতে দেশ ছাড়ার আগে আমিই সেই ঘোষণা দিতাম” [দ্রঃ ১৯৭১ এর ১০ই জুলাই মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে প্রদত্ত ভাষণ]

(৭৩)বর্ষীয়ান জননেতা মাওলানা ভাসানীর উপরোক্ত অকপট স্বীকারোক্তির মাধ্যমে একথা অনস্বীকার্য ভাবেই প্রমাণিত হয় যে, শুধুমাত্র তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান নয় বরং অখণ্ড এবং অবিভক্ত পাকিস্তানের সংখ্যা গরিষ্ঠ জনসাধারণের নির্বাচিত নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু মুজিব ছাড়া বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণের ব্যাপারে তথা স্বাধীনতা ঘোষণা করার ব্যাপারে বৈধ এবং আইনানুগ কোন ক্ষমতা কিংবা কোন যোগ্যতা অথবা কোন অধিকার কিংবা কোন এক্তিয়ার আদৌ কারও ছিল না। আর এহেন কোন ঘোষণা কেউ দেনও নি। কেননা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার পূর্বেই যদি জিয়াউর রহমান এহেন ঘোষণা দিতেন, আর যদি পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর সাথে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার কোন ভাবেই কোন আপোষ মীমাংসা হয়ে যেত, সেক্ষেত্রে দেশদ্রোহিতার অপরাধে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে “কোর্ট মার্শাল” হতো। আর এহেন কোর্ট মার্শালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড অবধারিত ছিল। তিনি (জিয়া) নিজেও এ ব্যাপারে সম্যকভাবে অবগত এবং অবহিত ছিলেন বটে। তাই বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার পর এবং উক্ত ঘোষণার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর ১৯৭১ এর ২৭শে মার্চ সন্ধ্যা ৭-০০ – ৭-৩০ টায় তিনি (জিয়াউর রহমান) বঙ্গবন্ধুর পক্ষে উপরোক্ত ঘোষণা পাঠ করেছেন। আর এটিই প্রকৃত সত্য বটে।

(৭৪)সচেতন দেশবাসী জানেন যে, ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ তথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনটি পর্যন্ত দেশবাসীর নিকট জিয়াউর রহমান ছিলেন সম্পূর্ণভাবে অখ্যাত এবং অজ্ঞাত একজন মেজর। ঐ সময়ে তিনি মেজর পদমর্যাদায় সেনাবাহিনীর মধ্যম স্তরের একজন সামরিক অফিসার ছিলেন। তাই স্বীকৃত মতেই তিনি ঐ সময়ে কোন জাতীয় নেতা ছিলেন না। এহেন অবস্থায় জাতীয় কোন নেতা কিংবা নেত্রী ব্যতিরেকে অথবা তাঁদেরকে পাশ কাটিয়ে জিয়াউর রহমানের পক্ষে ঐ সময়ে জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে তথা দেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে কোন প্রকার ঘোষণা দেয়ার মতো আইনানুগ কোন ক্ষমতা (Legitimate right) কিংবা কর্তৃত্ব (Lawful authority) অথবা কোন এক্তিয়ার (Locus standi) -ই তাঁর আদৌ ছিলনা। একজন সচেতন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি (মেজর জিয়া) ও এ ব্যাপারে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন বটে। আর ইতিহাস ও এই সাক্ষ্যই দেয় যে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আদৌ কোন ঘোষক নন। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তিনি ঘোষণাপত্রের পাঠক মাত্র।

(৭৫)দেশ মাতৃকার তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় না এনে বার বার প্রচারের মাধ্যমে যারা একটি নির্ভেজাল সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দিতে চান, তারা বুকে হাত দিয়ে শুধু একবার বলুনতো জিয়াউর রহমান নিজে কার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন? তিনি কার অধীনে এবং কার নেতৃত্বাধীনে যুদ্ধ করেছেন? ঐ সময়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন কোন্‌ সরকার? মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এবং প্রধান সেনাপতি ই বা কে ছিলেন? জিয়াউর রহমান তাঁর স্বকণ্ঠে স্বাধীনতার যে ঘোষণাটি দিয়েছেন বলে যিনি বা যারা দাবি করেন, সেই পুরো ঘোষণাটি একটিবারের জন্য ও দেশবাসীকে শোনানো হয়না কেন? ঐ ঘোষণার খসড়া কে লিখে দিয়েছেন এবং উক্ত পুরো ঘোষণাটি দেশবাসীর সামনে প্রচার করার মতো সৎ সাহস আপনাদের মধ্যে কারও আছে কি? ঐ ঘোষণার সাক্ষী সাবুদই বা কে কে? উক্ত ঘোষণার সময়ে কে কে উপস্থিত ছিলেন? উপরোক্ত ঘোষণা প্রদানের সময়ে কে কে কি কি ধরনের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছেন? এতদসংক্রান্ত কোন একটি প্রশ্নের সঠিক এবং যথোপযুক্ত জবাব আপনাদের মধ্যে কেউ কি দিতে পারবেন?

(৭৬)মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও বেঁচে থাকার তাগিদে এবং প্রয়োজনে তাকে অনেক সময় অনেক ব্যাপারেই আপোষ করতে হয়। সময়ের বিবর্তনে তথা প্রতিকূল পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং পারিপার্শ্বিকতার কারণে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় অনেক কিছুর সাথেই তাকে মানিয়ে চলতে হয়। কিন্তু তার পরও এমন অনেক কিছুই আছে, যার সাথে কোন নিঃস্ব, রিক্ত কিংবা হতদরিদ্র একজন দুর্বল মানুষও কখনো কোন ভাবেই কোন আপোষ করে না। কোন মানুষই তার মায়ের সতীত্ব তথা আব্রু নিয়ে কোন সমঝোতা করে না। কোন ভাই তার বোনের কিংবা কোন স্বামী তার স্ত্রীর সম্ভ্রম বেচাকেনা করে না। জীবন যুদ্ধে পরাজিত কোন হতভাগ্য পিতাই তার কন্যা সন্তানের ইজ্জত ক্ষমতাদর্পী কারও নিকট বিকিয়ে দিতে সম্মত হন না। হীনবল কোন ভিখারিনীও তার কোলের শিশু সন্তানটিকে ফেলে রেখে কোথাও পালিয়ে যান না। আবহমান কাল ধরেই শাশ্বত এমন অনেক কিছুই আছে, যা নিয়ে কোন আপোষ কিংবা সমঝোতা করলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। তখন সে পশুর চেয়েও অনেক নিচে নেমে যায়।

(৭৭)অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশে এখন মূল্যবোধের দারুণ অবক্ষয় চলছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই এখন ক্রমবর্ধমান আদর্শগত বিচ্যূতির প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। সামান্য লোভ এবং লালসার তাগিদে আবার কখনো বা লোভনীয় কোন পদ কিংবা পদবীর মোহে তারা তাদের আজন্ম লালিত বিশ্বাস তথা নীতি, আদর্শ, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ অকাতর চিত্তে এবং অম্লান বদনে বিলিয়ে দিচ্ছেন। রাতারাতি ভুল পাল্টিয়ে, বোল পাল্টিয়ে এবং অবস্থান পরিবর্তন করে তারা নিজেদেরকে আত্মসমর্পণ করে চলেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলা মায়ের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস সহ আমাদের এমন অনেক গৌরবোজ্জ্বল অর্জন রয়েছে, যা নিয়ে কারও কোন ভাবেই আপোষ করা উচিত নয়। আমাদের সবারই অনুধাবন করা উচিত যে, একাত্তরের আঙ্গিকে মুজিবের সঙ্গে অন্য যে কারও তুলনা অত্যন্ত গর্হিত এবং অমার্জনীয় অপরাধ। আর মহান মুজিবের ইতিহাসই বাংলাদেশের ইতিহাস। মুজিবের স্বাধীনতার চেতনা ভিন্ন এই দেশের ভিত্তি এবং অবস্থান প্রকৃত প্রস্তাবেই অর্থহীন এবং অকল্পনীয়।

(৭৮)সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন যে, মিখাইল গর্বাচেভকে নোবেল পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহের পতন ঘটানো গেলেও সমাজতন্ত্রের মৃত্যু নেই। তাই কার্ল মার্কস এবং মহামতি লেনিনের ছবি আজও মার্কিন সরকারের নিকট আতংকের বিষয় বলে বিবেচিত হয়। ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুর ছবিও আমাদের দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নিকট এখনো ত্রাস এবং আতংকের কারণ বলেই বিবেচিত হয়। এরা ভাল ভাবেই জানেন যে, মুজিবের অস্তিত্বকে না মুছে ফেলা পর্যন্ত কিংবা তাঁর অবদানকে ম্লান অথবা খাটো না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে শত বার পরাজিত করা গেলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে মুছে ফেলা যাবে না। তাই মুজিবের পাশে যে কোন একটি পার্শ্ব চরিত্র দাঁড়া করানো এদের জন্য অত্যাবশ্যক এবং অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আর এহেন পার্শ্ব চরিত্র দাঁড়া করাতে গিয়েই তারা প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত নীতি এবং নৈতিকতা বিবর্জিত কল্প কাহিনীর অবতারণা করে চলেছেন।

ড.মোঃ ফজলুর রহমান,সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট 

(চলমান)

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »