অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা করোনার লাল জোন থেকে কমলা জোনে

ইউরোপ ডেস্কঃ ভিয়েনায় করোনার সংক্রমণ এক লক্ষ জনপদে একশতের নীচে নেমে আসায় করোনার ট্র্যাফিক লাইট সিস্টেমে সর্বোচ্চ বিপজ্জনক লাল জোন থেকে কমলাতে নামিয়ে আনা হয়েছে। নভেম্বর মাসের শুরু থেকে এই প্রথমবারের মতো, সমগ্র অস্ট্রিয়া করোনার ট্র্যাফিক লাইট সিস্টেমের অধীনে লাল জোন থেকে বের হয়ে এলো ভিয়েনা। অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ অস্ট্রিয়ার করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকের পর কমিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানান।

রাজধানী ভিয়েনাকে কমলা জোনে ফিরিয়ে আনলেও করোনার সংক্রমণের বিস্তার কমে গেছে বা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে এমন ভাবার কোন সুযোগ নেই। গড় সংক্রমণ কিছুটা কমে আসলেও বিপদ এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই আছে বলে  বিশেষজ্ঞরা সংবাদ মাধ্যমকে জানান। এপিএ শুক্রবার ভিয়েনায় জানান,অস্ট্রিয়ান করোনা কমিশন ভিয়েনাকে কমলাতে বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে করোনার কমিশন অস্ট্রিয়ার ফেডারেল সরকারকে সুপারিশ করেছেন যে,অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতাঞ্চলের রাজ্য Salzburg, Kärnten ও Tirol রাজ্যে বৃটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মিউটেশন ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় উপরোক্ত রাজ্য সমৃহে যেন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে,বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার Tirol রাজ্যের রাজধানী Innsbruck এর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভাইরোলজিস্ট সমগ্র Tirol রাজ্যকে কোয়ারেন্টাইন করার পরামর্শ দিলে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবার গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, সরকারের এক বিশেষজ্ঞ দল সেখানে অবস্থান করে পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছেন। অস্ট্রিয়ার ফেডারেল সরকার রবিবার Tirol এর করোনার ভবিষ্যত সম্পর্কে আগামীকাল রবিবার সরকার তার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ভিয়েনাকে করোনার লাল জোন থেকে কমলা জোনে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে কমিশন জানান যে,তারা গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন,ভিয়েনার এক  লাখ বাসিন্দাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ১০০ জনের নীচে নেমে এসেছে। কমিশন আরও জানান,গত ১৯ জানুয়ারী থেকে ভিয়েনায় প্রতি একলাখ জনপদে সংক্রমণ ১০০ জনের নীচে নেমে এসেছে। কমিশনের তথ্য  অনুযায়ী,ভিয়েনা রাজ্যে গতকাল একলাখ জনপদে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৯৭ জন। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) করোনা সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী ভিয়েনাকে লাল জোন থেকে কমলা জোনে ফেরত আনা হয়েছে।

অন্যদিকে বুর্গেনল্যান্ড, আপার (OÖ)এবং লোয়ার অস্ট্রিয়া(NÖ) রাজ্যেও সংক্রমণ  একলাখ জনপদে সংক্রমণ ১০০ জনের নীচে নেমে আসলেও করোনার মিউটেশন ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কা থাকায় এই সমস্ত রাজ্য অব্যাহত করোনার ঝুঁকিপূর্ণ লাল অঞ্চলেই থাকছে। ইউরোপের বিভিন্ন শহরে করোনার সংক্রমণের বিস্তার অব্যাহত বৃদ্ধি পেলেও অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় করোনার সংক্রমণের বিস্তার অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। করোনা কমিশন বলেন, গত সাত  দিন যাবৎ ভিয়েনার সংক্রমণের বিস্তারের হার বিবেচনা করার পাশাপাশি, ট্র্যাফিক লাইটের স্তরটি নির্ধারণের সময় করোনা কমিশন হাসপাতালে রোগী ভর্তি,স্থান সংক্রান্ত,আইসিইউ, সংক্রমণের শৃঙ্খলাগুলির সনাক্তকরণ এবং রাজ্যটিতে করোনা পরীক্ষার ইতিবাচক হারকেও বিবেচনা করেছেন। আন্তঃসীমান্ত যাত্রী এবং ফিরে আসা যাত্রীদেরও হিসাব ও তাদেরকে পর্যবেক্ষণেরও আওতায় আনা হয়েছিল।

রাজধানী ভিয়েনা কমলা জোন ঘোষিত হলেও অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা Kronen Zeitung জানিয়েছেন, ভিয়েনা এখনও করোনার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে। ভিয়েনার পরের অবস্থানে রয়েছে Oberösterreich ও Burgenland রাজ্য। পত্রিকাটি আরও জানান যে, যদিও সংক্রমণের হ্রাস ভিয়েনার বাসিন্দাদের পক্ষে অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক, তবে এই সংক্রমণের হ্রাস করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শেষ হওয়ার ঈঙ্গিত বহন করে না।

গত ১ লা ফেব্রুয়ারী থেকে অস্ট্রিয়ান সরকার ফেব্রুয়ারীর শেষ অবধি লকডাউনটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল – যদিও কিছু ব্যবস্থা শিথিল করা হয়েছিল। করোনার এই বর্ধিত লকডাউনটি ঘোষণা দেওয়ার সময়, সরকার বলেছিল যে দেশজুড়ে প্রয়োগ করা সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ – তবে ভিয়েনা নিজেই শিথিল হওয়ার সুযোগ পাবে যদি এখানে করোনার সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস পায়। ভিয়েনাকে করোনার ট্র্যাফিক লাইট সিস্টেমে কমলা জোন ঘোষণা করা হলেও ভিয়েনার বাসিন্দাদের উপর এর তেমন কোনও ব্যবহারিক প্রভাব পড়বে না,শুধুমাত্র এই ঘোষণা প্রতীকী ব্যবস্থা বা নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভিয়েনা থেকে প্রকাশিত আরেকটি দৈনিক Wiener Zeitung জানিয়েছেন যে, সমগ্র অস্ট্রিয়াই করোনার লাল জোনে রাখার ইচ্ছুক ছিলেন কমিশন কিন্ত ভিয়েনা রাজ্য প্রশাসনের অনুরোধ এবং সিস্টেমে পড়ে যাওয়ায় ভিয়েনাকে লাল জোন থেকে কমলা জোনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যখন ভোট দেওয়ার বিষয়টি আসে তখন এপিএ এর তথ্য অনুসারে, নিম্ন ও উচ্চতর অস্ট্রিয়া এবং স্টাইরিয়ার রাজ্যের প্রতিনিধিরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। আরও বিরত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধানের কার্যালয়। তবে অস্ট্রিয়ার পশ্চিমাঞ্চল রাজ্য সমূহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় এবং সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা ভিয়েনাকে কমলা জোন ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফেডারেল রাজ্য সমূহের প্রতিনিধিরা সকলেই একমত হন যে, Steiermark রাজ্য ভোট দানে বিরত থাকার ফলে অন্যান্য রাজ্যগুলি এখনও লাল জোনে অব্যাহত থাকবে।

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »