ভোলায় বাল্যবিয়ে বেড়েই চলছে

ভোলা: সরকার বাল্যবিয়ে রোধে নানা  উদ্যোগ নিলেও ভোলায় বাল্যবিয়ে ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অভিভাবকরা তাদের কন্যা সন্তানের বয়স লুকিয়ে বাল্যবিয়ে দিচ্ছেন। রাতের আঁধারে গোপনেই সারা হচ্ছে বিয়ের আয়োজন। জন্মসনদে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কনের বয়স বাড়িয়ে কৌশলে প্রাপ্ত বয়স্ক বানিয়ে বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব বিয়ে থামালেও গোপনে আয়োজন করায় অনেক ক্ষেত্রেই তা থামানো সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান,দরিদ্র পরিবার গুলোতে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মেয়ের চেহারার আকর্ষণ কমে যাবে আর তখন বিয়েতে মোটা অঙ্কের যৌতুক দিতে হবে। এ ধারণা থেকে বাল্যবিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে বিয়ের আগে মেয়েরা যাতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ে এবং পরিবারের সুনাম বজায় রাখতে মেয়েদের বাল্যবিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার পরিবারগুলো, বিশেষ করে বন্যা প্রবণ এলাকার পরিবার গুলো তাদের মেয়েদের বাল্যবিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারগুলো সংসারের খরচ বাঁচাতে এবং কন্যা সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পেরে কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন।

আইনজীবীরা জানান, বিশেষ প্রেক্ষাপটে কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বিধান রেখে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ পাস হওয়ায় আগের তুলনায় বাল্যবিয়ে আরও বেড়েছে। আবার সনদে ঘষামাজা করে আর এফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স পরিবর্তন করেও অভিভাবকরা সন্তানদের কম বয়সে বিয়ে দিচ্ছেন।

চলতি বছরের ৮ ও ১৭ জানুয়ারি ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ও রাজাপুর ইউনিয়নে গোপনে বাল্যবিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে স্থানীয় পুলিশ ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহায়তায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে অর্থদন্ড করেন প্রশাসন। তবে এতকিছুর পরেও বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাল্যবিয়ের এমন বেপরোয়া বিচক্ষণতা থাকলেও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নেই বাল্যবিয়ের বাৎসরিক প্রতিবেদন।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার চামেলী বেগম জানান, বাৎসরিক কোনো প্রতিবেদন নেই জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে। বছরে কয়টি বাল্যবিয়ে হয়েছে অথবা বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কতজন কিশোর-কিশোরী এমন কেনো তথ্য জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নেই। নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে বাৎসরিক একটা প্রতিবেদন থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না। তবে এখন থেকে নিয়মিত এই প্রতিবেদন করবেন বলে জানান তিনি।

সাব্বির আলম বাবু /ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »