অস্ট্রিয়ায় লকডাউনের ভবিষ্যত নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সরকারের দেশের বিশেষজ্ঞ,রাজ্য গভর্নর এবং বিরোধীদলের সাথে করোনা নিয়ে আলোচন করেছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী) চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের কার্যালয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকরা দেশের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ,রাজ্য গভর্নর, সামাজিক অংশীদার এবং বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক পৃথকভাবে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি এবং লকডাউনের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আলোচনায়, সরকার অস্ট্রিয়ায় বর্তমান করোনার পরিস্থিতি এবং মিউটিশন ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া যায়, সে ব্যাপারে সকলের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ নিয়েছেন। বর্তমানে চলমান লকডাউন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে ৮ তারিখ লকডাউন শেষে সরকার পুনরায় সবকিছু খুলবে কিনা বা লকডাউন আবারও বর্ধিত করা হবে কিনা সে বিষয়ে সরকার এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে নি।

আগামী বৃহস্পতিবার করোনায় তৃতীয়বারের লকডাউন নিয়ে আলোচনার জন্য অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম,সরকারের এক সূত্রের মাধ্যমে জানান,ফেডারাল সরকারের নেতৃবৃন্দ তাদের সাথে বর্তমানে দেশের করোনার পরিস্থিতি, মিউটেশন ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং দেশে করোনার বর্ধিত লকডাউন আরও দীর্ঘায়িত অথবা শেষ করার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবার (গ্রিনস) আগাম ঘোষণা করেছিলেন যে,সরকার সোমবারের বৈঠকের পর লকডাউনের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্ত গতকাল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত কোন আলোচনা বা ঐক্যমতে আসা যায় নি।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছেন,বিশেষজ্ঞরা সরকারকে এই সপ্তাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। পরে ফেডারেল সরকারের চ্যান্সেলারি থেকে জানানো হয়েছে,সোমবারের বৈঠকে সরকার দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে শুধুমাত্র পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আরও জানিয়েছেন যে,বর্তমানে মিউটেশন ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তারের ফলে দেশের সার্বিক সংক্রমণের হারকে প্রভাবিত করেছে,তা আমরা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ এই পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করেই আগামী সোমবার আমরা একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি।

এদিকে সরকারের সাথে গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠকের পর অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল SPÖ এর চেয়ারপার্সন ডা.পামেলা রেন্ডি-ভাগনার অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ কে জানান, দেশের করোনার সংক্রমণের বিস্তারের পরিস্থিতি এখনও গুরুতর। তিনি জানান, এই বৈঠকে সরকার কোন সিদ্ধান্তে আসার পূর্বে সকলের মতামত ও পরামর্শ নিচ্ছেন। তিনি সরকারকে ভ্যাকসিন সরবরাহের বাধা দ্রুত অতিক্রম করতে পরামর্শ দিয়েছেন। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

পামেলা আরও জানান,দেশে সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা হ্রাস পেলেও বৃটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মিউটেশন ভাইরাসের সনাক্ত এবং বিস্তারের ফলে অনেকটাই আতঙ্কের মধ্যে আছি। অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার আরেক বিরোধীদল দল FPÖ এর সাংগঠনিক চেয়ারম্যান হারবার্ট কিকল এপিএ এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,আমরা গত কয়েকদিন যাবৎ সরকারের কার্যকলাপে বুঝতে পারছি যে, সরকার লকডাউনটি আবারও বাড়ানোর পায়তারা করছে। কিকল আরও জানান,আমরা শুনতে পাচ্ছি অস্ট্রিয়ায় হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আগামী মার্চের শেষে বা এপ্রিলের পূর্বে খুলছে না।

তিনি আরও বলেন, সরকারী সূত্রের মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে,সরকার পরিকল্পিত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে স্কুল ও ব্যবসা-বাণিজ্য খোলার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে যেতে পারে অর্থাৎ লকডাউন আরও দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার রাজনৈতিক দল NEOS এর প্রধান মাইন্ডল রাইজিংগার এপিএ এর সাথে সাক্ষাৎকারে বলেন,আমরা সরকারের কাছে দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির সত্যতা এবং বৃটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মিউটেশন ভাইরাস সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট প্রত্যাশা করছি। এর উপর ভিত্তি করেই আমরা আমাদের স্কুল ও ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন ১,৪১৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৪ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২৬ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ২৮৩ জন,Salzburg রাজ্যে ২০৬ জন, Steiermark রাজ্যে ২০২ জন,NÖ রাজ্যে ১৬৮ জন, Tirol রাজ্যে ১৩৭ জন,Kärnten রাজ্যে ১০৫ জন, Voralberg রাজ্যে ৫৩ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৩৭ জন নতুন করে সংক্রমিত সনাক্ত হয়েছেন। অস্ট্রিয়ায় করোনায় এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০৭,১৪০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭,৫১৫ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ৩,৮৪,৯৩৬ জন।

অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৪,৬৯৯ জন।এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩২০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৮৮৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »