অস্ট্রিয়ায় লকডাউন আরো বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সরকার দেশের চলমান লকডাউন বর্ধিত বা শেষ করার বিষয়ে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক নেতাদের সাথে আলোচনা করেছেন। সরকারী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা চলমান লকডাউনটিকে আরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহ বাড়াতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা হোম অফিসকে বাধ্যতামূলক করার জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের তাগিদ দিয়েছেন সরকারকে।

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জের নেত্বৃত্বে সরকারের নীতি নির্ধারকরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন। অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল Oeb24 জানিয়েছে, রবিবার লকডাউন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিশেষজ্ঞ এবং সামাজিক অংশীদারদের সাথে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। অস্ট্রিয়াতে করোনার মহামারীর জন্য আরোপিত ব্যবস্থাগুলি বর্ধিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সম্ভবত এটি আরও কড়াও করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি।

সরকারকে বিজ্ঞানীরা অনুরোধ করেছেন, নতুন ভাইরাসের বৈকল্পিক B.1.1.7 এর সংক্রমণ বিস্তারের ফলে লকডাউনটি আরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহ যেন বাড়ানো হয়। ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস রেক্টর ওসওয়াল্ড ভাগনার বলেন, অস্ট্রিয়ায় এক সপ্তাহের গড় সংক্রমণ কমে ১৩০ থেকে ১৫০ এর মধ্যে নেমে না আসা পর্যন্ত লকডাউন ও বিধিনিষেধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সরকারকে FFP2 মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের প্যানেল নতুন ব্রিটিশ ভাইরাস মিউটেশন B.1.1.7 এর সংক্রমণের বিস্তার সম্পর্কে জরুরী সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য মাইক্রোবায়োলজিস্ট আন্দ্রেয়াস বার্গথেলার বলেন, “আমরা জানি যে, এই ভাইরাসটি পূর্ববর্তী করোনা ভাইরাসের ধরণের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক ও শক্তিশালী। এটি এমন এক পরিস্থিতি যা আপনি গেম চেঞ্জার হিসাবে দেখতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থাগুলি মূলত এখনও নতুন রূপটি সহ ভাইরাস ধারণের জন্য উপযুক্ত। বলেন, “আমরা যদি সংক্রমণের বিস্তারের সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনতে চাই, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রাখতে চাননি, তবে এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল: “আমি মনে করি আমাদের এই লক্ষ্যটি দুই বা তিন সপ্তাহের মধ্যে অর্জন করতে হবে।” ভিয়েনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-রেক্টর জনগণের চলাচলকে সীমাবদ্ধ করার জন্য রাজনীতিবিদদের কাছে স্পষ্ট দাবী জানান।

বিশেষজ্ঞ প্যানেল হোম অফিসকে বাধ্যতামূলক (যেখানেই সম্ভব) করা প্রয়োজন। তারা বলেন, স্কুল এবং কিন্ডারগার্টেনগুলির ক্ষেত্রে এটিও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও বেশি শিশু উপস্থিত রয়েছে। তিনি স্কুল খোলার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এফএফপি ২ মুখোশ ব্যবহারও বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত ।  এক মিটার দূরত্বকেও দুই মিটার পর্যন্ত প্রসারিত করতে হবে; এর জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। লকডাউন শেষ হওয়ার পরেও করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকা পর্যন্ত এই এফএফপি ২ মাস্ক পড়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক থাকা উচিত।

সরকারের বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে,  সরকার আগামীকাল রবিবার লকডাউনের ভবিষ্যত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। সূত্র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ (ÖVP) এবং রাজ্য গভর্নরদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের কথোপকথনের পরে এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, করোনার বিধিনিষেধ সম্ভবত কমানো হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, অস্ট্রিয়ান সরকার করোনার লকডাউন বর্ধিত সহ বিধিনিষেধ আরও কঠোর করতে যাচ্ছে। অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার সকালে সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ, উপ প্রধান ভার্নার কোগলার , স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামাকে সাথে নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন দেশে লকডাউনের ভবিষ্যত সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।

কবির আহমেদ / ইউবি টাইমস

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »