আজ বাঙ্গালী জাতির জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন

মো:বায়েজিদ মীরঃ ১৯৭২ সনের এই ১০ জানুয়ারী সাড়ে ৯মাস পাকিস্তানের কারাগার হায়েনার হিংস্র ছোবল থেকে সাড়ে সাত কোটী মানুষের মনের মণি বাংলার অবিসংবাদি নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে আসেন তার ভালবাসার মানুষ-বাংলার মানুষের পাশে-যে রেসকোর্স ময়দান থেকে তিনি তার জীবনের সমস্ত অর্জন বাংলার দামাল ছেলে এবং দেশপ্রেমিক জনগনের কাছে আমানত রেখে ঐতিহাসিক ৭মার্চ বিদায় নিয়েছিলেন, সেই পবিত্র ময়দানে বিজয়ের পতাকা হাতে নিয়ে ফিরে আসেন তিনি। সেদিন বাংলার মানুষের আনন্দ-উল্লাসের সীমা ছিল না।

১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কাপুরুষের দল আত্ম সমর্পন করে। দীর্ঘ ৯মাস এক রক্তক্ষয়ী সীমাহীন সমরের পর দেশ স্বাধীন হলেও বাংলার মানুষের এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মনে নির্ভেজাল আনন্দ ছিলনা – কারন তখনও বাংলার দু:খী মানুষের জাতির পিতা পাকিস্তানের নারকীয় প্রকোষ্ঠে বন্ধী ছিলেন।

যখন জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেয়েছেন এবং ১০ জানুয়ারী ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে ভাষন দিবেন। পূর্বের দিনই মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সিদ্ধান্ত হলো বঙ্গবন্ধুর অনুষ্ঠানে আমরা যোগদান করবো। ১০ জানুয়ারী ভোরে আমরা এক ঝাঁক মুক্তিযোদ্ধা রমনা রেসকোর্স অভিমুখে রওয়ানা হলাম। দুপুর ১২টা থেকে রেসকোর্স ময়দানে অপেক্ষা করছি। কিন্তু তখন এক মিনিটই মনে হচ্ছিল দীর্ঘ সময়। দুপুর দেড়টার দিকে ঘোষনা হলো বঙ্গবন্ধুর বহনকারী বিমান এখন ঢাকার আকাশে এসে পৌঁছেছে। আমরা সবাই আকাশের দিকে তাকালাম-দেখা গেল আকাশের অনেক উপরে ছোট্ট পাখীর মতো একটা বিমান চক্কর দিতে দিতে রমনা রেসকোর্স সোজা নীচের দিকে নামছে। এমনি অনেকবার চক্কর দিয়ে অবশেষে অনেক নিচে নেমে আমাদের মাথার উপর দিয়ে তেজগাঁও বিমান বন্দরে অবতরন করলো। তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে গাড়ীতে রেসকোর্সের মাঠ পর্যন্ত পৌঁছতে তার সময় লেগেছিল দুই ঘন্টার উপরে। কারণ তাকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তা ছিল জনগণে পরিপূর্ণ। অবশেষে বাংলার কোটী মানুষের নয়নের মণি বঙ্গবন্ধু স্টেজে উঠে বক্তৃতা শুরু করলেন। বঙ্গবন্ধু কথা বলতে পারছিলেন না- কথায় কথায় আনন্দ অশ্রূধারা ঝরছিল এবং সেদিন উপস্থিত জনগনের কেউ কাঁদে নাই, এমন কাউকে আমি দেখি নাই। জয়বাংলা – জয় বঙ্গবন্ধু।

মো:বায়েজিদ মীর

(সাবেক কমান্ডার)

সুতারপাড়া গেরিলা ইউনিট কমান্ড

সেক্টর – ২

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »