নতুন রূপান্তরিত ভাইরাসের জন্য যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ শুক্রবার ৮ জানুয়ারী ভিয়েনায় অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার করোনার নতুন রূপান্তরিত ভাইরাস এবং ইউরোপের বর্তমান করোনার পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তিনি জানান যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নতুন ভাইরাস পরিবর্তনগুলিও অস্ট্রিয়ায় এসে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহের শুরুতে অস্ট্রিয়ায় ৫ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। ভিয়েনা বিমানবন্দরে পরীক্ষার সময় তাদের শরীরে এই ভাইরাস সনাক্ত হয়। শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুডল্ফ আনস্কোবারের সাথে এই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইরোলজিস্ট মনিকা রেডলবার্গার-ফ্রিটজ, জিওজি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হার্ভিগ ওস্টেরম্যান এবং আন্ড্রেয়াস বার্গথেলার (সিইএমএম গবেষণা কেন্দ্রের জন্য আণবিক মেডিসিন)। তারা ইউরোপের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি এবং নতুন পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

তারা জানান,অস্ট্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের নতুন পরিবর্তিত ভাইরাসে ৫ জন সনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত আর কোন সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় নি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নতুন এই পরিবর্তিত ভাইরাসটির সংক্রমণের বিস্তার আক্ষরিক অর্থেই বিস্ফোরিত হয়েছে। বরিস জনসনের সরকার তাদের দেশে লকডাউনটি ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে,করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া সত্ত্বেও শীত মৌসুমের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহ এবং মাস ইউরোপে করোনার সংক্রমণের বিস্তার অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামী কয়েক সপ্তাহ আমাদের জন্য কঠিন হলেও পরবর্তীতে “ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ভ্যাকসিনগুলির প্রয়োগের সাথে সাথে সংক্রমণের বিস্তার ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে বলে আশা করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপান্তরিত ভাইরাস  B-117 এর হটস্পট হিসাবে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর কথা জানান। অবশ্য মন্ত্রী কোন নির্দিষ্ট তারিখের কথা বলেন নি।

 

অস্ট্রিয়া,যুক্তরাজ্যের সাথে ২২ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারী পর্যন্ত বিমান যোগাযোগ স্থগিত করলেও তা এখনও বলবৎ আছে। অবশ্য অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের এক বিশেষ নির্দেশে অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স (AUA) ৬ জানুয়ারী থেকে ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আটকে পড়া অস্ট্রিয়ানদের ফেরত আনতে বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি দিয়েছেন। তদ্ব্যতীত, আনস্কোবার ব্যাখ্যা করেছিলেন যে করোনার পরীক্ষাগুলির কেন্দ্রবিন্দু বর্তমানে অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। পরীক্ষাগুলি পেশাগত গ্রুপ এবং প্রবেশের পরীক্ষার জন্য প্রসারিত করতে হবে। শুক্রবার বিরোধী দলগুলিকে খসড়া আইন পাঠানো হবে।

আনস্কোবারের মতে, প্রবেশের পরীক্ষাগুলি অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার বিকল্প নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন,অস্ট্রিয়ায় ভ্যাকসিনগুলি বর্তমানে প্রথমিকভাবে নার্সিংহোম এবং বৃদ্ধ লোকদের বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন,গত সপ্তাহের শেষে সর্বমোট ৩০,০০০ হাজার মানুষকে করোনার ভ্যাকসিন ডোজ বা টিকা প্রদান করা হয়েছে।

সম্মেলনে উপস্থিত ভাইরোলজিস্ট মনিকা রেডলবার্গার -ফ্রিটজ বলেন, “করোনা ভাইরাসগুলি আরএনএ ভাইরাস এবং এগুলি রূপান্তরগুলির পক্ষে খুব সংবেদনশীল, তাই এই নতুন রূপান্তরগুলি অবাক করার মতো নয়।” আর নতুন রূপান্তরিত ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগের তীব্রতার কোনও পার্থক্য নেই, তাই “উদ্বেগের কারণ নেই”। আন্তর্জাতিক  নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সমস্ত দেশ বর্তমানে পর্যাপ্ত সিকোয়েন্সিং করছে। মিউটেশনের কারণে যতটা রোগের তীব্রতা সম্পর্কিত, এখনও কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেডলবার্গার -ফ্রিটজ বলেছেন,আমাদের এই নতুন পরিবর্তিত ভাইরাস নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন,অস্ট্রিয়ায় পুনরায় সংক্রমণের বিস্তারের হার সমস্যা হতে পারে। আর নতুন সংক্রমণের বিস্তার লাভের ফলে পুনরায় রোগী বৃদ্ধি পেয়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রচন্ড চাপ পড়তে পারে। এই বিশেষজ্ঞ জানান, সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস করতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি হ’ল মুখ এবং নাক সুরক্ষা, নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগগুলি হ্রাস করা অতি জরুরী। বিশেষজ্ঞ রেডলবার্গার-ফ্রিটজের মতে, এই নতুন পরিবর্তিত ভাইরাসটি দ্বারা শিশুরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে যে প্রতিবেদনগুলি প্রকাশ হয়েছে তা এখনও বিশেষজ্ঞ দ্বারা সত্য প্রমাণিত হয় নি।

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »