অসহায় শরণার্থীদের গ্রহণের অনুরোধ করলেন,অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট

ভিয়েনা থেকে,কবির আহমেদঃ আজ বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে এক আবেদনে অস্ট্রিয়ার  রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার ভ্যান (ফান) ডার বেলেন ক্রিসমাসের প্রাক্কালে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে এক আবেদনে গ্রীসে অবস্থানরত অসহায় শরণার্থীদের গ্রহণের জন্য অস্ট্রিয়ান সরকারের নিকট উদাত্ত আহবান জানান।   রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার ভ্যান ডার বেলেন  বলেন,গ্রীসের শরণার্থী শিবিরগুলিতে এক  জাতীয় জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে,সেখানে  অসহায় মানব সন্তান,মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কোন জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেই ।

তিনি বিশেষ করে শিশুদের কথা উল্লেখ করে বলেন,তারা এখন ময়লার মধ্যে বাস করছে এবং এই পরিস্থিতি ইউরোপের অযোগ্য। মাইগ্রেশন পলিসির মতো বড় বড় প্রশ্নের সমাধানে কয়েক সপ্তাহ এবং কয়েক মাস সময় লাগবে,তাই আমাদের এই অসহায় মানুষদের জন্য এখনই কিছু করতে হবে।

ফেডারেল রাষ্ট্রপতি অস্ট্রিয়ানদের আশাবাদী  হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনি জীবনকে আরও উন্নত করতে পারেন। করোনার মহামারীর সাথে আপনি এটি বেশ ভাল দেখতে পাচ্ছেন। আমরা মাস্ক ও যথাযথ বিধিনিষেধ মেনে করোনার সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে শিখেছি। প্রাথমিকভাবে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত আমরা এখন একটি করোনার ভ্যাকসিনও পেয়ে গেছি। অবশেষে প্রেসিডেন্ট ভ্যান ডের বেলেন বলেন যে, যদি আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে তাহলে সফলতার এমন ঘটনা ঘটবে যা আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে পূর্ণ করবে।

এদিকে ক্রিসমাসের প্রাক্কালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার আর্চবিশপ কার্ডিনাল ক্রিস্টোফ শোনব্রুন প্রেসিডেন্টের এই মানবিক আবেদনের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন,গ্রীসের শরণার্থী শিবিরগুলিতে অবস্থানরত অসহায় মানব সন্তানেরা এখন “রাজনৈতিক খেলার অংশ” হয়ে গেছে। তিনি বলেন,আমি বুঝতে পারছি বৈশ্বিক মহামারী করোনার জন্য আমাদের সরকার একটি কঠিন সময় কাটাচ্ছে, তবে  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরও “মানবতা”কে ভুলে গেলে চলবে না।

অন্যদিকে ভিয়েনার মেয়র মিখাইল লুডভিগ (SPÖ) ক্রিসমাসের প্রাক্কালে এক আবেদনে তিনি অস্ট্রিয়ার সরকারকে গ্রীসের শরণার্থী শিবিরে জরুরী সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।ভিয়েনার মেয়র মিখাইল লুডভিগ আবারও স্মরণ করে দিয়ে বলেন, সেখানকার মানুষ এবং শিশুরা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাস করছে।

EuroBanglaTimes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »